তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন ‘শান্তিনিকেতন’-এ সিআইডি (CID)-র হঠাৎ আগমনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আজ দুপুরে গোয়েন্দা সংস্থার একটি দল দক্ষিণ কলকাতার হরিশ মুখার্জি রোডের ওই ঠিকানায় পৌঁছনোর পরই শুরু হয়েছে জল্পনা। যদিও এই মুহূর্তে তদন্তের সঠিক কারণ নিয়ে সরকারিভাবে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা মেলেনি, তবে ঘটনাটি নিয়ে রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অন্দরমহলে আলোচনার ঝড় উঠেছে।
উল্লেখ্য, গত সোমবারই এই একই ঠিকানায় কলকাতা পুলিশের একটি দল উপস্থিত হয়েছিল। সেবার একটি কালো গাড়িতে দুই উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিককে অভিষেকের বাড়িতে প্রবেশ করতে দেখা যায়। ওই সময় বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত একটি বিতর্ক রাজ্যজুড়ে শিরোনামে ছিল। সেই আবহে পুলিশের এই হঠাৎ পরিদর্শনের বিষয়টি ঘিরে জনমনে কৌতুহল তৈরি হয়েছিল। বেশ কিছুক্ষণ বাড়িতে থাকার পর যখন ওই আধিকারিকরা বেরিয়ে আসেন, তখন দেখা যায় তাঁদের হাতে একটি মনিটর রয়েছে। কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে সেই মনিটর সংক্রান্ত বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
সোমবারের সেই রহস্যময় পুলিশি ভিজিটের রেশ কাটতে না কাটতেই আজ সিআইডি-র আগমন বিষয়টি আরও জটিল করে তুলেছে। গোয়েন্দারা ঠিক কী কারণে এবং কোন নির্দিষ্ট মামলার তদন্তে সেখানে গিয়েছেন, তা নিয়ে এখনো অন্ধকারে রয়েছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। বিরোধী শিবিরগুলি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মন্তব্য করতে শুরু করলেও, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত এই নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বাসভবনে বারবার কেন্দ্রীয় বা রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থার আধিকারিকদের যাওয়া এবং রহস্যময়ভাবে মনিটরের মতো সরঞ্জাম নিয়ে ফিরে আসার বিষয়টি কি কোনো বড়সড় তদন্তের ইঙ্গিত? এই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। যদিও গোয়েন্দা সূত্রের খবর, আইনি প্রক্রিয়া মেনে যে কোনো বাড়িতেই তদন্তের স্বার্থে আধিকারিকরা যেতে পারেন, তবে ‘শান্তিনিকেতন’-এর ঘটনার ক্ষেত্রে যেভাবে গোপনীয়তা বজায় রাখা হচ্ছে, তা জনমানসে একাধিক সংশয় তৈরি করেছে।
তদন্তকারী সংস্থাগুলির এই অতিসক্রিয়তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যেমন কৌতুহল রয়েছে, তেমনি স্থানীয় এলাকায় এদিন কঠোর নিরাপত্তা বলয় নজরে এসেছে। সূত্রের খবর, সিআইডি দলটি বাড়িটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বা নথিপত্র সংক্রান্ত কিছু বিষয়ের তদন্ত করতে গিয়ে থাকতে পারে। এখন দেখার বিষয়, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে প্রশাসন এই ঘটনা নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানায় কি না। তবে এই মুহূর্তে গোটা দক্ষিণ কলকাতা এবং রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাটিই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।





