রাজ্যের নতুন জনকল্যাণমুখী প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ (Annapurna Yojana) নিয়ে তৈরি হওয়া জল্পনা ও উদ্বেগের অবসান ঘটাতে আসরে নামলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সম্প্রতি এই প্রকল্পের আবেদনের জন্য ১২ পাতার একটি সুদীর্ঘ ফর্ম অনলাইনে ও অফলাইনে প্রকাশ করা হয়েছে। ফর্মের বিশাল আকার এবং তাতে থাকা অসংখ্য খুঁটিনাটি ব্যক্তিগত তথ্যের প্রশ্ন দেখে সাধারণ আবেদনকারীদের মধ্যে একপ্রকার আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে, এত তথ্য প্রদানের পর আদৌ প্রকল্পের সুবিধা বা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো অনুদান পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে হাজারো প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল সাধারণ মানুষের মনে।
এই পরিস্থিতিতে সমস্ত জল্পনার জল ঢেলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, কোনো আবেদনকারীরই বিচলিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, “ফর্মের দৈর্ঘ্য বা তাতে চাওয়া তথ্যের আধিক্য দেখে ঘাবড়ে যাওয়ার কিছু নেই। আমাদের সরকার স্বচ্ছতা ও আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রেখেই এই প্রকল্পের কাজ পরিচালনা করছে। আপনারা কেউ বিভ্রান্ত হবেন না বা গুজবে কান দেবেন না।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও আশ্বস্ত করেছেন যে, যদি কোনো মহিলা বা আবেদনকারী ফর্ম পূরণ করতে গিয়ে সমস্যার সম্মুখীন হন, তবে তাঁদের চিন্তার কারণ নেই। সরকারের তরফ থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা সরাসরি আবেদনকারীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম ফিলাপের কাজে সাহায্য করবেন। অর্থাৎ, ফর্ম পূরণের জন্য কাউকে দালালের দ্বারস্থ হতে হবে না বা বাড়ির বাইরে দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হবে না।
সরকারের এই প্রকল্পের পেছনে রয়েছে একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য। স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য সরকার প্রতিটি তথ্য যাচাই করতে চায়। মুখ্যমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, “আমরা চাই প্রকৃত প্রাপকদের হাতেই যেন এই অর্থ পৌঁছায়। অতীতে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে যে ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল, এই প্রকল্পে তার কোনো সুযোগ নেই।” তিনি আরও জানান, সরকারের লক্ষ্য হলো প্রকৃত উপভোক্তাদের খুঁজে বের করা এবং নিশ্চিত করা যে, মহিলাদের জন্য নির্ধারিত এই প্রকল্পের অর্থ যেন কোনোভাবেই পুরুষদের অ্যাকাউন্টে না চলে যায়। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো প্রকল্পে জালিয়াতির অভিযোগে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পুরুষদের গ্রেফতার হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এবার সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন যে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সংকল্প পত্রের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। রাজ্যের প্রতিটি প্রকৃত প্রাপককে চিহ্নিত করে তাঁদের প্রাপ্য অধিকার পৌঁছে দেওয়াই সরকারের মূল দায়িত্ব। যারা সত্যিই এই প্রকল্পের যোগ্য, তাঁদের কাছে সরকার নিজেই পৌঁছাবে। তাই সাধারণ মানুষকে শান্ত থাকার এবং সরকারি কর্মীদের সহযোগিতার অপেক্ষায় থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। অন্নপূর্ণা যোজনার এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হলে রাজ্যের সাধারণ ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা মহিলারা যে দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক সুরক্ষা পাবেন, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, সরকারের এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে কতটা স্বস্তি ফেরাতে পারে।





