আপনার মেয়ের সুরক্ষায় আজই নিন এই টিকা! সার্ভিক্যাল ক্যানসার মোকাবিলায় বড় উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার

দেশে মহিলাদের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে অন্যতম বড় উদ্বেগের কারণ হলো সার্ভিক্যাল ক্যানসার বা জরায়ুমুখ ক্যানসার। মারণ এই রোগের হাত থেকে রক্ষা পেতে টিকাকরণের কোনো বিকল্প নেই। এই ভয়াবহ রোগের মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকারের বিনামূল্যে টিকা দেওয়ার কর্মসূচির হাত ধরে এবার পশ্চিমবঙ্গেও শুরু হলো সার্ভিক্যাল ক্যানসার প্রতিরোধক টিকাকরণ অভিযান। শনিবার বিধাননগর থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

রাজ্যজুড়ে টিকাকরণের বিস্তার:
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, শুধুমাত্র বিধাননগর নয়, রাজ্যজুড়ে স্বাস্থ্য পরিষেবাকে সুসংহত করতে একযোগে ২৩৫টি সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এই টিকাকরণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী; আগামী দিনে রাজ্যের প্রায় ৮৮০টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এই টিকাকরণ কেন্দ্র সম্প্রসারিত করা হবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশজুড়ে এই কর্মসূচির সূচনা হওয়ার পর, এবার বাংলার ১৪ বছর বয়সী কিশোরীদের জন্য এই টিকা বিনামূল্যে উপলব্ধ করা হলো। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্যে ইতিমধ্যেই ৭ লক্ষ ৭২ হাজার ৬৫০ ডোজ টিকা এসে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে।

কেন এই টিকা অত্যন্ত জরুরি?
চিকিৎসকদের মতে, সার্ভিক্যাল ক্যানসার মূলত ‘হিউম্যান পাপিলোমাভাইরাস’ (HPV) নামক এক বিশেষ ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে শরীরে বাসা বাঁধে। দীর্ঘ সময় ধরে এই ভাইরাস শরীরে অবস্থান করলে তা ক্যানসারের মতো প্রাণঘাতী রোগের রূপ নিতে পারে। এই সংক্রমণ প্রতিরোধের একমাত্র কার্যকরী উপায় হলো HPV ভ্যাকসিন। ১৪ বছর বয়সী কিশোরীদের এই পর্যায়ে টিকা দিলে তাদের ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্য সুরক্ষিত থাকবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।

বিশ্বজুড়ে সংক্রমণের ভয়াবহতা:
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, বিশ্বে মহিলাদের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে সার্ভিক্যাল ক্যানসার। প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ৬ লক্ষ মহিলা নতুন করে এই ক্যানসারে আক্রান্ত হন। সচেতনতার অভাব এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসার অভাবে প্রতি বছর ৩ লক্ষেরও বেশি মহিলার মৃত্যু ঘটে এই রোগে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক উদ্বেগের রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই রোগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর প্রায় ৯০ শতাংশই ঘটে ভারত সহ বিশ্বের নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলিতে। সুতরাং, ভারতের মতো দেশে এই টিকাকরণ কর্মসূচি শুধুমাত্র একটি সরকারি প্রকল্প নয়, এটি লক্ষ লক্ষ নারীর জীবন বাঁচানোর একটি শক্তিশালী ঢাল।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই উদ্যোগে বাংলার মেয়েরা যে এক নতুন সুরক্ষাকবচ পেতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তের অভিভাবক ও কিশোরীদের এই কর্মসূচি সম্পর্কে সচেতন করতে স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়েও বার্তা পৌঁছে দেবেন বলে খবর। সঠিক সময়ে টিকা নিয়ে জরায়ুমুখ ক্যানসারের মতো মারণ রোগকে নির্মূল করার এই অভিযানে শামিল হোন, এটিই এখন সরকারের মূল বার্তা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy