নতুন সরকারের প্রশাসনিক রদবদলের মাঝে এবার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করল প্রশাসন। সরকারি কাজে গাফিলতি, বেনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে রাজ্যের মোট ৪ জন উচ্চপদস্থ আধিকারিকের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে ধান ও চাল বণ্টনের প্রক্রিয়ায় বড়সড় গরমিলের অভিযোগে সাসপেন্ড করা হয়েছে খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তরের দুইজন জেলা নিয়ন্ত্রক (District Controller of Food & Supplies)-কে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, রাইস মিলগুলি থেকে সরকারি ধানের সমপরিমাণ চাল আদায় করার ক্ষেত্রে এই দুই আধিকারিক চূড়ান্ত অবহেলা প্রদর্শন করেছেন। শুধুমাত্র সাসপেনশন নয়, সংশ্লিষ্ট রাইস মিলগুলির বিরুদ্ধেও থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
একই সঙ্গে বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিককে বরখাস্ত করা হয়েছে ত্রিপল বিতরণের হিসেবে গরমিলের অভিযোগে। গত অর্থবর্ষের সরকারি ত্রাণসামগ্রীর হিসাব মেলাতে ব্যর্থ হওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি, বীরভূমে বালি উত্তোলনের ক্ষেত্রে নিয়মবহির্ভূত কাজের অভিযোগে এক বিএলআরও (BLRO)-কেও সাসপেন্ড করা হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগারওয়াল সাফ জানিয়েছেন, সরকারি কাজে ইচ্ছাকৃত গাফিলতি করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
এদিকে, এই প্রশাসনিক অভিযানের পাশাপাশি নদীয়ার নবদ্বীপে ত্রাণসামগ্রী লুঠের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। শুক্রবার রাতে বরালঘাট স্পোর্টিং ক্লাবে পুলিশি অভিযানে বিপুল পরিমাণ ত্রাণের ত্রিপল, কম্বল ও শাড়ি উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ দিন ধরে সরকারি অর্থে কেনা এই সামগ্রী ক্লাবের প্রায় দশটি ঘরে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। এই ঘটনার সঙ্গে সরাসরি নাম জড়িয়েছে নবদ্বীপ পুরসভার চেয়ারম্যান বিমানকৃষ্ণ সাহার। স্থানীয়দের অভিযোগ, চেয়ারম্যানের ফ্ল্যাটের ঠিক পাশেই অবস্থিত এই ক্লাবঘরে সরকারি ত্রাণ মজুত করে রাখা হয়েছিল। রাতভর উত্তাল ছিল এলাকা। অবশেষে শনিবার ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সহযোগিতায় নবদ্বীপ পুরসভার পুরপিতা বিমানকৃষ্ণ সাহাকে আটক করে নবদ্বীপ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। দুর্নীতি ও সরকারি সম্পত্তি চুরির অভিযোগে এই গ্রেপ্তারি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। প্রশাসনিক মহলে এখন রীতিমতো শোরগোল পড়ে গেছে।





