বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক সাফল্যের পর থেকেই বঙ্গ বিজেপির পরবর্তী লক্ষ্য এখন স্পষ্ট—কলকাতা পুরসভা বা ‘ছোট লালবাড়ি’। রাজ্যের শাসনক্ষমতায় পরিবর্তনের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার তিলোত্তমার পুরনিগম দখলের নীল নকশা তৈরি করছে পদ্ম শিবির। ডিসেম্বরের শেষেই কি কলকাতা পেতে চলেছে এক নতুন মেয়রের মুখ? এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করেই এখন সরগরম রাজ্য-রাজনীতি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের প্রাপ্ত ভোটের শতাংশ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কলকাতা পুরসভার ১০০টিরও বেশি ওয়ার্ডে বিজেপি বেশ ভালো ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। এই তথ্যই এখন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। ‘ছোট লালবাড়ি’-র অন্দরের অংকের হিসেবে, গেরুয়া শিবিরের এই উত্থান কেবল সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা পুরসভার প্রশাসনিক কাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তনের হাতছানি দিচ্ছে।
কেন এই জল্পনা ডিসেম্বরে? রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, বর্তমান পুরবোর্ডের মেয়াদ এবং নতুন করে সমীকরণ বদলের সম্ভাবনাকে সামনে রেখে চলতি বছরের শেষ অর্থাৎ ডিসেম্বরের মধ্যেই বড় কোনো প্রশাসনিক রদবদল বা নির্বাচনের দামামা বাজতে পারে। বিজেপি নেতৃত্বও তাদের কৌশল সাজাতে শুরু করেছে। পুরসভার অন্দরের জল্পনা অনুযায়ী, নাগরিক পরিষেবা থেকে শুরু করে নিকাশি ব্যবস্থা—প্রতিটি ইস্যুকে হাতিয়ার করেই তারা শাসকদলকে কোণঠাসা করার পরিকল্পনা করছে।
তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য বিজেপির এই স্বপ্নকে ‘দিবাস্বপ্ন’ বলেই উড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু তাতেও জল্পনা থামছে না। ছোট লালবাড়ির মসনদে কি সত্যিই এবার পদ্ম ফুটবে? নাকি পুরনো দুর্গ রক্ষায় তৃণমূল নতুন কোনো রণকৌশল অবলম্বন করবে? সেই উত্তর পেতে এখন তাকিয়ে আছে গোটা শহরবাসী।





