পাহাড়ি রাজনীতির অন্দরমহলে ফের বড়সড় চাঞ্চল্য। বর্ষার দুর্যোগ মোকাবিলা নিয়ে আয়োজিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত হলেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার প্রতিষ্ঠাতা বিমল গুরুং। দীর্ঘদিনের আড়ালে থাকা গুরুংয়ের এই উপস্থিতি পাহাড়ের রাজনৈতিক মহলে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মোর্চার অপর নেতা রোশন গিরিও।
দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ের সক্রিয় রাজনীতি থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখেছিলেন বিমল গুরুং। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর সাথে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তাঁর এবং রোশন গিরির উপস্থিতি রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, অনেক বেশি অর্থবহ। অনেকে মনে করছেন, এটি নিছক প্রশাসনিক বৈঠক নয়, বরং পাহাড়ের আগামী দিনের রাজনৈতিক চালচিত্র বদলে যাওয়ার এক নতুন সঙ্কেত।
কেন এই জল্পনা? বৈঠকে গুরুং এবং রোশন গিরিকে অত্যন্ত সাবলীল ও সক্রিয় ভূমিকায় দেখা গেছে। পাহাড়ি এলাকায় দুর্যোগ মোকাবিলার পাশাপাশি উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে তাঁরা যেভাবে মত বিনিময় করেছেন, তা থেকে পরিষ্কার যে পাহাড়ের নীতিনির্ধারণে ফের গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছেন তাঁরা। বিমল গুরুংয়ের এই নতুন সক্রিয়তা কি পাহাড়ের কোনো নতুন রাজনৈতিক জোটের ইঙ্গিত দিচ্ছে? নাকি সরকারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ফের একবার পাহাড়ের একচ্ছত্র নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন তিনি?
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং পরবর্তীতে দীর্ঘ আলোচনার পর পাহাড়ের রাজনীতিতে ফের নতুন কোনো মেরুকরণ তৈরি হয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, পাহাড়ের মাটি কামড়ে থাকা এই দুই নেতাকে পাশে রেখে বড় কোনো রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।





