বিরোধী দলনেতার নির্বাচন ঘিরে জমা দেওয়া নথিপত্রে বিধায়কদের স্বাক্ষর নিয়ে বিতর্ক ও জালিয়াতির অভিযোগে উত্তাল রাজ্যের রাজনীতি। অভিযোগ, বিধানসভায় জমা দেওয়া সেই নথিতে এমন অনেক বিধায়কের স্বাক্ষর ছিল, যাঁরা সেই নির্দিষ্ট দিনে বিধানসভাতেই উপস্থিত ছিলেন না। এই ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে এবার আসরে নামল রাজ্যের তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি (CID)।
কাদের বাড়িতে হানা? সূত্রের খবর, এই তদন্তের অংশ হিসেবে সিআইডি-র একটি দল বোলপুরের তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহার বাড়িতে পৌঁছায়। এছাড়া এন্টালির বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষের বাড়িতেও সিআইডি আধিকারিকরা যান। জানা গেছে, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে একজন ‘হ্যান্ড রাইটিং এক্সপার্ট’-কেও নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, যাতে নথিতে থাকা স্বাক্ষরগুলো খতিয়ে দেখা সম্ভব হয়। চন্দ্রনাথ সিনহার ক্ষেত্রেও স্বাক্ষরের নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি বেশ কিছু নথিপত্র পরীক্ষা করা হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: বিধানসভার সচিবের করা একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগের ভিত্তিতেই সিআইডি এই তদন্ত শুরু করেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভায় বিধায়কদের আসন বা ঘর বণ্টন নিয়ে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ এবং শাসকদলের অস্বস্তির মধ্যে এই তদন্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিরোধী দলনেতার নির্বাচন সংক্রান্ত নথিতে জালিয়াতির এই অভিযোগ যদি সত্যি প্রমাণিত হয়, তবে তা রাজ্যের বিধানসভা ও বিধায়কদের ভাবমূর্তির ওপর বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে।
রাজনৈতিক জল্পনা: সম্প্রতি শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল বিধায়করা বিধানসভায় ঘর না পাওয়া ও অসৌজন্যের রাজনীতির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিলেন। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এই সিআইডি তদন্ত রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনার জন্ম দিয়েছে। শাসকদল ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে এই নথিপত্র বিতর্ক ও তদন্তের এই মোড় কোন দিকে যায়, এখন সেটাই দেখার।
তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সিআইডি বা অভিযুক্ত বিধায়কদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।





