মৃত্যু এই জগতের পরম সত্য। হিন্দু শাস্ত্র অনুসারে, মৃত্যুর পর জীবের যাত্রা এখানেই শেষ হয় না, বরং শুরু হয় এক নতুন পরিক্রমা। ‘গরুড় পুরাণ’-এ মৃত্যুর পরবর্তী জীবন এবং আত্মার যাত্রাপথ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মৃত্যুর পর আত্মা সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবী ত্যাগ করে না। প্রিয়জন ও চেনা পরিবেশের প্রতি গভীর আসক্তির কারণে আত্মা টানা ১৩ দিন নিজের বাড়ি ও পরিবারের আশেপাশেই অবস্থান করে।
গরুড় পুরাণ অনুযায়ী, মৃত্যুর পর ত্রয়োদশ দিন বা ১৩তম দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই দিনেই আত্মা দেহত্যাগের আগে শেষবারের মতো তার পরিবার ও ঘরবাড়িকে দেখে বিদায় নেয়। তাই ত্রয়োদশ দিনে যথাযথ নিয়ম মেনে পিণ্ডদান, ব্রাহ্মণ ভোজ এবং শ্রাদ্ধানুষ্ঠান পালন করা হয়, যাতে মৃত ব্যক্তির আত্মা মুক্তি পায় এবং পরিবারের ওপর পূর্বপুরুষদের আশীর্বাদ বর্ষিত হয়।
এই ১৩ দিন পরিবারের সদস্যদের কিছু বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। শাস্ত্রজ্ঞদের মতে, ত্রয়োদশ দিন পর্যন্ত বাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা উচিত এবং এই সময় প্রার্থনা কক্ষে নিয়মমাফিক পূজা পাঠ করা জরুরি। এই দিনগুলোতে রাতের বেলা একা একা শোক প্রকাশ বা বারবার মৃত ব্যক্তিকে উচ্চস্বরে ডাকা উচিত নয়। কারণ, পরিবারের প্রতি অতিরিক্ত কান্নাকাটি বা ডাক আত্মার আসক্তি বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে আত্মা সহজে মুক্তি পেতে পারে না এবং মোক্ষ লাভে বাধা সৃষ্টি হয়। বাড়ির পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ও পবিত্র রাখলে মৃত ব্যক্তির আত্মার শান্তি সুনিশ্চিত হয় বলে বিশ্বাস করা হয়।





