একদিকে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে প্রবল অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে ঠিক সেই সময়েই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক বিস্ফোরক মন্তব্যে নতুন করে শঙ্কার কালো মেঘ ঘনিয়ে এল। উপসাগরীয় অঞ্চলের দীর্ঘদিনের মার্কিন মিত্র দেশ ওমানকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প বললেন, “হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ কাউকে নিতে দেওয়া হবে না, ওমানকেও নয়। সবার মতো আচরণ করতে হবে, নয়তো আমাদের ওদের উড়িয়ে দিতে হবে।”
বিবাদের কেন্দ্রবিন্দু কী? সম্প্রতি একটি রিপোর্ট ছড়িয়ে পড়েছিল যে, যুদ্ধবিরতি এবং শান্তি আলোচনার অংশ হিসেবে ইরান ও ওমান যৌথভাবে হরমুজ প্রণালীর জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করবে। এই খবর প্রকাশ্যে আসার পরই বুধবার হোয়াইট হাউসের মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি স্পষ্ট করে দেন, হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে আন্তর্জাতিক জলসীমা এবং এর ওপর কোনো একক দেশের নিয়ন্ত্রণ বরদাস্ত করবে না আমেরিকা। হোয়াইট হাউসের তরফে ইরানের আনা এই প্রস্তাবিত ‘ড্রাফ্ট’ বা খসড়াকে সম্পূর্ণ ‘মনগড়া’ বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
কেন এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য অত্যন্ত অবাক করার মতো। কারণ:
মিত্র ওমান: ওমান বহু বছর ধরে আমেরিকার অন্যতম ঘনিষ্ঠ উপসাগরীয় মিত্র এবং সামরিক সহযোগী।
মধ্যস্থতাকারী: আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনার মাঝে ওমান বারবার পর্দার আড়ালে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে। সেই ওমানকেই এহেন হুমকির মুখে ঠেলে দেওয়ায় বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে।
ঘরোয়া রাজনীতি ও নির্বাচনের চাপ: ইরান নিয়ে এই সামরিক অস্থিরতার সরাসরি প্রভাব পড়েছে আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে। জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া হওয়ায় মার্কিন ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। আর মাত্র ছয় মাস পরেই আমেরিকায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘মিডটার্ম নির্বাচন’ বা মধ্যবর্তী নির্বাচন রয়েছে। কংগ্রেসের ওপর রিপাবলিকানদের আধিপত্য ধরে রাখা এই মুহূর্তে ট্রাম্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তবে জনমত সমীক্ষায় যুদ্ধের বিরুদ্ধে অসন্তোষ দেখা দিলেও, ট্রাম্প নিজের অবস্থানে অবিচল। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের কথা ভেবে তিনি নীতি বদলাবেন না।
হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব: বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত এই হরমুজ প্রণালী এখন ইরান ও আমেরিকা-ইসরায়েল সংঘাতের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। ইরান দাবি করেছিল, তাদের প্রস্তাবিত চুক্তিতে হরমুজ প্রণালীর বাণিজ্যিক চলাচল স্বাভাবিক হবে এবং বিনিময়ে আমেরিকা সামরিক উপস্থিতি ও অবরোধ কমাবে। কিন্তু ট্রাম্পের আজকের এই কঠোর অবস্থান বুঝিয়ে দিল, ইরান ইস্যুতে আমেরিকা কোনোভাবেই নমনীয় হতে রাজি নয়।





