তাজমহলে ছবি তুলেই বিতর্ক! রুবিও-র ভারত সফরে শীতল অভ্যর্থনা কি ট্রাম্পের ‘হেলহোল’ মন্তব্যের প্রতিশোধ?

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও-র চারদিনের ভারত সফর আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলেও, এর রেশ কাটছে না। সফরের প্রতিটি মুহূর্ত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে আগ্রার তাজমহলে তোলা রুবিও ও তার স্ত্রীর ছবি এবং জয়পুর বিমানবন্দর থেকে তার বিদায়লগ্নের দৃশ্য।

তাজমহলের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার পরই হায়দ্রাবাদের ইরানি কনস্যুলেট সোশ্যাল মিডিয়ায় এক কটাক্ষমূলক বার্তায় লেখে, “রুবিও যদি এই স্থাপত্য ও ইতিহাসের গুরুত্ব বুঝতেন, তবে এখানে ছবি তোলার জন্য পোজ দিতেন না।” এই মন্তব্যটি ইরান-মার্কিন বর্তমান উত্তেজনার পারদকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

অন্যদিকে, জয়পুর থেকে বিদায় নেওয়ার সময় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে কোনো বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ বা ঊর্ধ্বতন কূটনীতিক বিদায় জানাতে না আসায় নেটপাড়ায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। স্থানীয় পুলিশ ও নিচু তলার কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে রুবিও-র প্রস্থানকে অনেকে ভারতের ‘শীতল অভ্যর্থনা’ হিসেবে দেখছেন। প্রবীণ আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ অভিষেক সিংভি এ প্রসঙ্গে কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, “ভারত এখন আর ক্লায়েন্ট স্টেট নয়, বরং সমান অংশীদার। যুক্তরাষ্ট্রের চাপ প্রয়োগের কৌশলের পর ভারত থেকে লাল গালিচার সংবর্ধনা আশা করা ভুল।”

এই শীতল আচরণের নেপথ্যে অনেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত ‘হেলহোল’ মন্তব্যের যোগসূত্র খুঁজে পাচ্ছেন। এপ্রিল মাসে ভারত নিয়ে ট্রাম্পের এক বিতর্কিত পোস্ট ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে অস্বস্তি তৈরি করেছিল। রুবিওর সফরের সময় তাকে এই বিষয়ে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে তিনি বেশ অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন। বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অনেকেরই ধারণা, ট্রাম্পের সেই অশালীন মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই ভারত এই ধরনের প্রোটোকল মেনে বার্তা দিতে চেয়েছে।

তবে এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করতেও পিছপা হননি অনেকে। সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সুশীল সিং শেভরন লিখেছেন, “একজন শীর্ষ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিদায় জানাতে শুধু উর্দিধারী পুলিশ মোতায়েন করা অমার্জিত। ভারত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করতেই পারে, কিন্তু বিশ্বের সামনে এই ধরণের উপস্থাপন দেশের ভাবমূর্তির পক্ষে সুখকর নয়।”

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদিও প্রোটোকল অনুযায়ী রুবিওর এই সফরটি মূলত ছিল ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শনের, যেখানে মন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি বাধ্যতামূলক নয়, তবুও ভারতের মাটিতে এই ধরণের প্রোটোকল বর্জনের দৃশ্য আন্তর্জাতিক মহলে এক জোরালো আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির ক্রমবর্ধমান এই সম্পর্কের টানাপোড়েন ভবিষ্যতে কোন দিকে মোড় নেয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy