মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ-বাতাস ফের একবার রণকৌশলের উত্তাপে উত্তপ্ত হয়ে উঠল। একদিকে কূটনৈতিক আলোচনার গুঞ্জন, অন্যদিকে রণক্ষেত্রে মার্কিন বাহিনীর তীব্র সামরিক অভিযান—সব মিলিয়ে এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে গোটা বিশ্ব। বুধবার রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানি বাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে রাতভর বিধ্বংসী হামলা চালিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ এবং মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তার স্বার্থেই এই ‘প্রতিরক্ষামূলক’ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই অভিযানে মার্কিন বাহিনী বেশ কয়েকটি ইরানি ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করে দিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি জোট এবং ইরানের এই সংঘাতের রেশ এখন ছড়িয়ে পড়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। গত কয়েক মাসে হাজার হাজার প্রাণহানির পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, এই নতুন হামলায় তা আরও প্রকট আকার ধারণ করল। জ্বালানি তেলের দাম তো বটেই, রান্নার তেল থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় কাঁচামালের দামও আকাশচুম্বী। হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধার কারণে আন্তর্জাতিক পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। বিশ্ববাসী যখন একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির অপেক্ষায় ছিল, তখন এই নতুন হামলা সেই আশায় আবারও জল ঢেলে দিল।
গত সোমবার রাতে দক্ষিণ ইরানের বন্দর আব্বাস এলাকায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের এই আক্রমণের পর পরিস্থিতি নতুন করে জটিল হয়ে উঠেছে। যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে তিনি কূটনৈতিক উপায়ে সমস্যা সমাধানের পক্ষে, কিন্তু মাঠপর্যায়ের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। ট্রাম্পের ‘শান্তি আলোচনার’ বার্তার মাঝেই কেন এমন সামরিক আগ্রাসন, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রশ্ন উঠছে। পেন্টাগন এটিকে ‘আত্মরক্ষামূলক’ বলে দাবি করলেও, ইরান একে সরাসরি আগ্রাসন হিসেবেই দেখছে।
এর আগেও যুদ্ধবিরতির আবহে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় গোলাগুলি ও সামরিক উসকানির ঘটনা ঘটেছে। চলতি মাসেই ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ এবং হরমুজ প্রণালীতে ভারতের দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগ উঠেছিল। ভারতও এ বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল। ট্রাম্প প্রশাসন একদিকে ইরানকে আলোচনার টেবিলে আসার চাপ দিচ্ছে, অন্যদিকে সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে তাদের কোণঠাসা করার কৌশল নিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই রণকৌশল কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বিশ্ব অর্থনীতিকে এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই অস্থিরতা কতদিন চলবে এবং শেষ পর্যন্ত কোনো শান্তিচুক্তি সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে এখন গোটা বিশ্ব উৎকণ্ঠিত।





