গোয়া মানেই কি কেবল বাটার গার্লিক প্রন আর বিচের ধারের শ্যাক-এর মেনু? একেবারেই না। আপনি যদি পর্যটকদের ভিড় এড়িয়ে গোয়ার আসল স্বাদ পেতে চান, তবে আপনাকে ডুব দিতে হবে সেখানকার অলিগলির রান্নাঘরে। টুরিস্টদের জন্য বানানো চটকদার খাবারের বাইরে গোয়ার সংস্কৃতিতে মিশে আছে এমন ৫টি পদ, যা একবার খেলে বারবার ফিরে আসতে ইচ্ছে করবে।
১. সোরপোটেল ও সান্না: এটি ক্রিসমাসের মেইন হিরো। পর্কের লিভার, হার্ট ও মাংস ছোট ছোট করে কেটে ভিনিগার, শুকনো লঙ্কা ও গরম মশলায় ধিমে আঁচে রান্না করা হয়। এই পদটি ৩-৪ দিন পুরনো হলে এর স্বাদ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এর সঙ্গে খান ‘সান্না’—গোয়ান ইডলি। নারকেল দুধ আর তালের রস দিয়ে বানানো এই ইডলি সোরপোটেলের ঝাল পুরোপুরি প্রশমিত করে। এই স্বাদের জন্য চলে যান মাপসা বা মারগাওয়ের লোকাল বেকারিগুলোতে।
২. চিকেন শাকুতি: এটি কেবল একটি তরকারি নয়, এটি ১৭ রকম মশলার এক ম্যাজিক। ভাজা নারকেল, পোস্ত, তিল, স্টার অ্যানিস ও শুকনো লঙ্কা—সবকিছু রোস্ট করে মিহি করে বাটা হয়। এরপর চিকেন বা মাশরুমের সঙ্গে কষা রান্না। এর গাঢ় বাদামী রঙের কারিটি গোয়ার দেশি পাউরুটি ‘পোই’-এর সঙ্গে খেতে অপূর্ব লাগে।
৩. গোয়ান ফিশ থালি: মাত্র ১৫০ টাকায় যেন স্বর্গ! এতে থাকে নারকেল দিয়ে বানানো টক ‘হুমন’ কারি, মুচমুচে ভাজা কিংফিশ, শুঁটকি মাছের সালাদ ‘কিসমুর’ এবং ভাত। সঙ্গে অবশ্যই নেবেন সোলকড়ি—কোকাম ও নারকেল দুধের একটি হজমকারী শরবত। ক্যালাঙ্গুটের ঝকঝকে রেস্তোরাঁ নয়, বরং পানাজির ‘Ritz Classic’ বা আসাগাওয়ের ‘Starlight’-এর মতো ছোট দোকানেই এর আসল স্বাদ মিলবে।
৪. চোরিজ পাও: এটি গোয়ার নিজস্ব ভার্সন অফ ‘ভড়া পাউ’। গোয়ান পর্ক সসেজ বা চোরিজ পেঁয়াজ, টমেটো ও আলু দিয়ে মশলাদার করে ভাজা হয়। এরপর তা পোই ব্রেডের মাঝে পুরে পরিবেশন করা হয়। সন্ধ্যার নাস্তায় মাপসা বাস স্ট্যান্ডের সামনে এই স্ট্রিট ফুডটি মিস করা মানে গোয়া ট্রিপ অসম্পূর্ণ। দাম মাত্র ৫০-৬০ টাকা।
৫. বেবিঙ্কা: গোয়ার মিষ্টির রানি। এটি তৈরিতে লাগে অপার ধৈর্য। ময়দা, ডিম, চিনি আর নারকেল দুধের প্রতিটি লেয়ার ২০ মিনিট করে বেক করতে হয়। ৭ থেকে ১৬টি লেয়ারের এই মিষ্টি হালুয়া ও পুডিংয়ের এক দারুণ সংমিশ্রণ। পানাজির ‘Confeitaria 31 de Janeiro’ বা মারগাওয়ের ‘Mr. Baker 1922’ থেকে কিনুন খাঁটি বেবিঙ্কা।
পরের বার গোয়া গেলে টুরিস্ট ট্র্যাপে না পড়ে লোকাল দোকানে ঢুকে পড়ুন। শুধু বলুন, ‘একটা ফিশ থালি’। গোয়ার সত্যিকারের আতিথেয়তা ও স্বাদ আপনার মন আর পেট দুটোই ভরিয়ে দেবে।





