অসম বিধানসভায় বুধবার ‘দ্য ইউনিফর্ম সিভিল কোড, অসম, ২০২৬ বিল’ নিয়ে বিরোধীদের তোপের মুখে পড়ল রাজ্য সরকার। কংগ্রেস ও এআইইউডিএফ বিধায়কদের অভিযোগ, বেকারত্ব, বন্যা ও শিক্ষার মতো জ্বলন্ত সমস্যা থেকে নজর ঘোরাতেই বিজেপি এই বিল এনেছে। এটি নিছক একটি “রাজনৈতিক এজেন্ডা” ছাড়া আর কিছুই নয়।
কংগ্রেস নেতা ওয়াজেদ আলি চৌধুরী প্রশ্ন তোলেন, বিবাহ বা বিচ্ছেদের মতো ব্যক্তিগত বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণে যখন একাধিক বিদ্যমান আইন রয়েছে, তখন নতুন করে এই জটিল প্রক্রিয়ার প্রয়োজন কী? তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, যে বিলে আদিবাসীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, তাকে কীভাবে ‘সমন্বয়কারী’ বা ‘সমান’ বলা যায়? এই বিলে বহুবিবাহের জন্য সাত বছরের জেল এবং লিভ-ইন সম্পর্কের রেজিস্ট্রেশন না করলে তিন মাসের কারাদণ্ডের মতো কঠোর বিধান রাখা হয়েছে।
বিধায়ক জাকির হোসেন সিকদার সরকারের বিরুদ্ধে ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজনের অভিযোগ তুলে বলেন, ২০১৮ সালের আইন কমিশন ইউসিসি-র প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিল। সরকার কোনো ধর্মীয় সংগঠন বা সামাজিক গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই এই বিল পেশ করেছে, যা দেশের ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য’-এর পরিপন্থী। বিধায়ক নুরুজ্জামান হোদা সমস্ত জনজাতি ও সম্প্রদায়কে এই বিলের আওতায় আনার দাবি জানান, যাতে সংবিধান অনুযায়ী কোনো বৈষম্য না ঘটে। অন্যদিকে, এআইইউডিএফ বিধায়ক মজিবুর রহমানের দাবি, মৌলিক অধিকার খর্ব করে কোনো ডিরেক্টিভ প্রিন্সিপাল চাপানো সংবিধানসম্মত নয়। সব মিলিয়ে, অসমের বিতর্কিত এই বিল এখন রাজ্য রাজনীতির উত্তাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।





