‘মেক ইন ইন্ডিয়া’-র জয়জয়কার, অত্যাধুনিক অ্যান্টি-জ্যামিং প্রযুক্তিতে সজ্জিত হতে চলেছে বায়ুসেনার সুখোই-৩০

ভারতীয় বায়ুসেনার মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত সুখোই-৩০ এমকেআই (Su-30 MKI) যুদ্ধবিমানগুলি এবার পেতে চলেছে এক নজিরবিহীন প্রযুক্তিগত আপগ্রেড। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সম্প্রতি ২৫৮টি সুখোই যুদ্ধবিমানের নেভিগেশন সিস্টেমকে আরও সুরক্ষিত ও নির্ভুল করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ টেন্ডার জারি করেছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো বিমানগুলিকে অত্যাধুনিক অ্যান্টি-জ্যামিং এবং অ্যান্টি-স্পুফিং প্রযুক্তিতে সজ্জিত করা, যা শত্রুপক্ষের ইলেকট্রনিক যুদ্ধের মুখেও বিমানকে সুরক্ষিত রাখবে।

বর্তমান যুদ্ধক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক জ্যামিং বা শত্রুর রাডারে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা একটি সাধারণ কৌশল। নতুন এই প্রযুক্তি সেই ঝুঁকিকে পুরোপুরি নির্মূল করবে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের জারি করা আরএফপি (RFP) অনুযায়ী, এই সিস্টেমটি ভারতের নিজস্ব স্যাটেলাইট নেভিগেশন সিস্টেম ‘ন্যাভিক’ (NavIC) সহ জিপিএস, গ্লোনাস, বেইডু, গ্যালিলিও এবং গগনের মতো একাধিক নেটওয়ার্কের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করবে। এর ফলে, যেকোনো প্রতিকূল পরিবেশে শত্রুর ইলেকট্রনিক আক্রমণের মুখেও বিমানটি তার সঠিক অবস্থান ও নেভিগেশন ডেটা পেতে সক্ষম হবে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এই প্রকল্পটি শুধুমাত্র দেশীয় সংস্থাগুলির জন্য উন্মুক্ত রেখেছে, যা প্রধানমন্ত্রীর ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের এক বড় সাফল্য। প্রকল্পের কারিগরি বিশদ বিবরণ অনুযায়ী, নতুন অ্যান্টেনা ইলেকট্রনিক ইউনিটটি অত্যন্ত শক্তিশালী হবে এবং এটি ২১ কিলোমিটার পর্যন্ত উচ্চতা, ম্যাক ১.৫ গতি এবং -২জি থেকে ৯জি পর্যন্ত চাপের মতো কঠোর পরিস্থিতিতেও কার্যকর থাকবে। সামগ্রিকভাবে, এই প্রকল্পে ৩০০টি অ্যান্টেনা সিস্টেম, ৫০টি ফিল্ড লেভেল টেস্টার এবং ১০টি বেস লেভেল টেস্টার সরবরাহ করা হবে।

নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী, চুক্তি স্বাক্ষরের ২৪ মাসের মধ্যে পুরো প্রকল্পটি সম্পন্ন করতে হবে। প্রযুক্তিগত ও আর্থিক দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২২ জুন, ২০২৬। সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে, ২০২৮ সালের শেষ বা ২০২৯ সালের শুরুর দিকে ভারতীয় বিমানবাহিনীর প্রায় পুরো সুখোই বহরটি এই অত্যাধুনিক সুরক্ষাবলয়ে আচ্ছন্ন হয়ে পড়বে। বায়ুসেনার কর্মীদের জন্য এই প্রযুক্তির ব্যবহারে প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে। এই আপগ্রেড প্রকল্পটি ভারতীয় আকাশসীমার নিরাপত্তাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং শত্রুপক্ষের কাছে আকাশপথে যুদ্ধের কৌশলগত ভারসাম্য বদলে দেবে। দেশীয় প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে এমন একটি বিশাল পরিকল্পনা ভারতীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতাকে আবারও বিশ্বমঞ্চে প্রমাণ করল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy