একদিকে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের গুঞ্জন, অন্যদিকে দলের বর্ষীয়ান নেতাদের অভিমানে ভরা মন্তব্য—সব মিলিয়ে ফের অস্বস্তিতে ঘাসফুল শিবির। কালীঘাটে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অনুপস্থিত থাকলেন মেয়র পারিষদ তারক সিং। তবে কেন তিনি বৈঠকে গেলেন না, তা নিয়ে তাঁর মন্তব্যে উঠে এল তীব্র ক্ষোভ ও রাজনীতির প্রতি এক গভীর বিতৃষ্ণা।
‘অত্যাচারিত হচ্ছি, খোঁজ নেয় না কেউ’: বৈঠক বয়কটের কারণ হিসেবে তারক সিং স্পষ্ট জানিয়েছেন, দলের অন্দরে তিনি এবং তাঁর মতো বর্ষীয়ান নেতারা বর্তমানে যেভাবে ব্রাত্য ও কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন, তা মেনে নেওয়া কঠিন। তাঁর কথায়, “আমি অত্যাচারের শিকার হচ্ছি। দলীয় স্তরে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আমার বা আমাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া তো দূর, উল্টে চরম অবজ্ঞার শিকার হতে হচ্ছে। দলের কেউ কোনো খোঁজ নেয় না।”
রাজনীতির প্রতি মোহভঙ্গ: দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই নেতার গলায় শোনা গেল চরম আক্ষেপ। তিনি বলেন, “এখনকার রাজনীতিতে শব্দদূষণ অনেক বেড়েছে। নোংরামি ও কুৎসা রাজনীতির প্রধান হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি চাই না আমার নাতি-নাতনিরা এই পরিবেশের মধ্যে বড় হোক। তাদের আমি সাফ জানিয়ে দিয়েছি, ভবিষ্যতে যা খুশি করো, কিন্তু রাজনীতি থেকে দূরে থেকো।”
সাংগঠনিক সংকট: তারক সিংয়ের মতো একজন পোড়খাওয়া নেতার এই প্রকাশ্য ক্ষোভ এবং বৈঠকের মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া তৃণমূলের অন্দরে বড়সড় ফাটলের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে এই সমন্বয়ের অভাব যদি দ্রুত না মেটানো হয়, তবে আসন্ন পুরভোটের আগে সংগঠন সামলানো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
দলীয় কোন্দল ও নেতাদের এই ‘গৃহদাহ’ বর্তমান পরিস্থিতিতে তৃণমূলের ভাবমূর্তিতে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।





