কালীঘাটে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অনুপস্থিত থাকলেন দলের একাধিক হেভিওয়েট নেতা ও কাউন্সিলর। বিশেষ করে কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ তারক সিংয়ের মন্তব্য ঘিরে তৈরি হয়েছে প্রবল রাজনৈতিক জল্পনা। সূত্রের খবর, বৈঠকে না যাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি কার্যত প্রশ্ন তুলেছেন, “ওই ঘরে গিয়ে মিটিং করে কী হবে?” তাঁর এই বিস্ফোরক মন্তব্য দলের অন্দরের চাপা ক্ষোভকেই প্রকাশ্যে নিয়ে এল।
কেন এই অনুপস্থিতি ও ক্ষোভ? কালীঘাটের ওই বৈঠকে কাউন্সিলরদের একাংশের গরহাজিরা নজর কেড়েছে রাজনৈতিক মহলের। তারক সিং ছাড়াও অনিন্দ্য কিশোর রাউত, জীবন সাহা সহ বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট কাউন্সিলরের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। দলের একাংশের মতে, নেতৃত্বের সাথে সমন্বয়ের অভাব এবং সাংগঠনিক নানা বিষয় নিয়ে তৈরি হওয়া অভিমান থেকেই এই বয়কটের পথ বেছে নিয়েছেন তাঁরা।
সন্দীপন সাহার একই সুর: এদিকে, শুধুমাত্র তারক সিং নন, এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহাকেও এই সুরেই কথা বলতে শোনা গেছে। দলের নীতি-নির্ধারণী বিষয় এবং সংগঠনের সাম্প্রতিক পরিচালনার ধরন নিয়ে তিনিও নিজের অসন্তোষ গোপন করেননি। মঙ্গলবার কালীঘাটের বৈঠকে যে কয়েকজন বিধায়ক ও নেতা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে সন্দীপন সাহার উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।
রাজনৈতিক প্রভাব: তৃণমূল কংগ্রেসের মতো একটি সংগঠিত দলে নেত্রীর ডাকা বৈঠকে এভাবে বিশিষ্ট নেতাদের গরহাজির থাকা এবং প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করাকে বড় ধরনের ‘গৃহদাহ’ হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে আসন্ন চ্যালেঞ্জগুলোর মোকাবিলায় যখন দলের ঐক্যের প্রয়োজন, তখন এই ধরণের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব তৃণমূলের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এখন কীভাবে ড্যামেজ কন্ট্রোল করেন, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।





