অনলাইন কেনাকাটার দুনিয়ায় ‘ডেবিট কার্ড ইএমআই’ এখন অত্যন্ত জনপ্রিয়। স্মার্টফোন থেকে গৃহস্থালির সামগ্রী—সবই এখন সহজ মাসিক কিস্তিতে পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু অনেকেই জানেন না, এই সুবিধার আড়ালে লুকিয়ে আছে বড় ধরনের ঝুঁকি। সাধারণের ধারণা, যেহেতু টাকা নিজের সেভিংস অ্যাকাউন্ট থেকে কাটছে, তাই এর সাথে ক্রেডিট স্কোরের কোনো সম্পর্ক নেই। এই ধারণাটিই ভুল।
ব্যাঙ্কের কাছে ডেবিট কার্ড ইএমআই আসলে একটি ‘কনজিউমার ডিউরেবল লোন’। যখনই আপনি এই সুবিধা গ্রহণ করেন, তখন ব্যাঙ্ক বা ফিন্যান্স কোম্পানি সেই তথ্য ক্রেডিট ব্যুরো বা সিভিল (CIBIL)-এর কাছে রিপোর্ট করে। ফলে এটি সরাসরি আপনার ক্রেডিট প্রোফাইলকে প্রভাবিত করে। যদি প্রতি মাসে সময়মতো ইএমআই জমা দেন, তবে সিভিল স্কোর ভালো হয়। কিন্তু অ্যাকাউন্টে টাকা না থাকায় ইএমআই বাউন্স করলে তা ডিফল্ট হিসেবে গণ্য হয়, যা আপনার স্কোর দ্রুত কমিয়ে দিতে পারে। একইসঙ্গে অনেকগুলো ইএমআই চালু রাখলে ভবিষ্যতের বড় লোন পাওয়ার ক্ষেত্রেও বাধার সৃষ্টি হতে পারে।
‘নো কস্ট ইএমআই’-এর মোহে পড়ে হিডেন চার্জ বা প্রসেসিং ফি সম্পর্কে সচেতন না থাকা আরেকটি বড় ভুল। মনে রাখবেন, অটো-ডেবিট ব্যর্থ হলে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বাউন্স চার্জ কাটা হতে পারে। তাই বড় কোনো কেনাকাটার আগে নিজের আর্থিক অবস্থা যাচাই করে কিস্তির বোঝা নিন। সময়মতো পেমেন্ট করলে ক্রেডিট হিস্ট্রি মজবুত হবে, অন্যথায় ছোট একটি ভুল দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।





