দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে রাজ্যে পুনরায় শুরু হতে চলেছে প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ আবাস যোজনা। রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রাম উন্নয়ন দফতরের সাম্প্রতিক নির্দেশনায় নতুন করে আশার আলো দেখছেন সাধারণ মানুষ। দীর্ঘ দু’বছরেরও বেশি সময় ধরে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ বন্ধ থাকায় এই প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন রাজ্যের বহু প্রান্তিক মানুষ। সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে এতদিন রাজ্য সরকার নিজস্ব অর্থায়নে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের মাধ্যমে কাজ চালিয়ে গিয়েছিল। তবে সরকার পরিবর্তনের হাওয়া এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে, এবার প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ আবাস যোজনা চালুর বিষয়ে নজিরবিহীন তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রাম উন্নয়ন দফতরের তরফে ইতিমধ্যে সমস্ত জেলাশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দ্রুত ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য। প্রতিটি আবেদনের সত্যতা যাচাই করে আগামী ৩০ মে’র মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রকল্পের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে সুবিধার পৌঁছে দিতে সরকার এই বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের পর আবাস যোজনার মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় প্রকল্প পুনরায় চালুর উদ্যোগকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারি আবাসন প্রকল্পগুলি নিয়ে প্রবল আগ্রহ রয়েছে। কাঁচা বাড়িকে পাকা বাড়িতে রূপান্তরিত করা কিংবা নতুন ঘর তৈরির স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দিতে কেন্দ্রীয় সরকারের এই ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার দুটি মূল অংশ রয়েছে—শহর ও গ্রামীণ। দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী বা আর্থিকভাবে দুর্বল অংশের মানুষজন এই প্রকল্পের মাধ্যমে সরাসরি উপকৃত হন। শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, এই প্রকল্পের আওতায় বাড়ি তৈরির পাশাপাশি শৌচাগার, পানীয় জল এবং বিদ্যুৎ সংযোগের মতো অত্যাবশ্যকীয় সুযোগ-সুবিধাও নিশ্চিত করা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ আটকে থাকায় প্রকল্পের কাজ স্থবির হয়ে পড়েছিল, যা সাধারণ মানুষের ক্ষোভের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বর্তমান প্রশাসন মনে করছে, কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে প্রকল্পটি দ্রুত কার্যকর করলে রাজ্যের নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি বিপুলভাবে উপকৃত হবে। জেলাশাসকদের মাধ্যমে ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়াটি সঠিকভাবে সম্পন্ন হলে এবং কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনার জট কাটলে শীঘ্রই প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এখন প্রশ্ন উঠছে, ভেরিফিকেশনের পর কারা এই প্রকল্পের তালিকায় জায়গা করে নিতে পারবেন? সাধারণত, যারা প্রকৃত অর্থে কাঁচা বাড়িতে বসবাস করছেন এবং যাঁদের পাকা বাড়ি নেই, তাদেরই এই প্রকল্পের জন্য অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। পঞ্চায়েত ও গ্রাম উন্নয়ন দফতরের এই নতুন পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের গ্রামীণ পরিকাঠামোয় আমূল পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ যারা দীর্ঘদিন ধরে একটি মাথার ছাদের অপেক্ষায় ছিলেন, তাদের জন্য এই খবরটি সত্যিই স্বস্তিদায়ক। এখন দেখার বিষয়, আগামী ৩০ মে’র ডেডলাইনের মধ্যে জেলা প্রশাসন কতটা দ্রুত এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে।





