ক্ষমতাচ্যুৎ হতেই তৃণমূলের অন্দরে ফাটল! কাকলির ইস্তফার পরই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রহস্যময় পোস্ট ঘিরে শোরগোল

দীর্ঘ ১৫ বছরের একচ্ছত্র শাসনের পর বাংলায় ক্ষমতা হারিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিধায়ক সংখ্যা তলানিতে এসে ঠেকেছে মাত্র ৮০-তে। আর এই বড়সড় ধাক্কার পরই দলজুড়ে শুরু হয়েছে ভাঙন ও বিদ্রোহের সুর। এই অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেই চাঞ্চল্যকর খবর, দলীয় সাংগঠনিক পদের দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দিলেন বর্ষীয়ান সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। আর তাঁর এই ইস্তফার পরপরই সরগরম রাজ্য রাজনীতি। কাকলিকে উদ্দেশ্য করে এক রহস্যময় শুভেচ্ছা বার্তা দিয়েছেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, যা ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন করে জল্পনা।
রবিবার এক সাংবাদিক বৈঠক ডেকে সাংগঠনিক জেলার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। এরপরই সোমবার সকালে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, “আপনার আগামী দিনের যাত্রাপথ আরও মসৃণ হোক, আপনি ও আপনার পরিবারের সকলে খুব ভালো থাকুন, এই শুভকামনাই রইল। আশা করি, এতদিন ধরে জমে থাকা সমস্ত কালিমা এবার সত্যিই ধুয়ে-মুছে নির্মল হয়ে যাবে। নতুন অধ্যায়ে অন্তত আর ব্যাখ্যার প্রয়োজন না পড়ুক, সেই প্রার্থনাও রইল।”
কল্যাণের এই পোস্ট কার উদ্দেশ্যে—তা নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও রাজনৈতিক মহলের দাবি, এই ইঙ্গিত সরাসরি কাকলি ঘোষ দস্তিদারের দিকেই। ‘কালিমা’ ধুয়ে ফেলার কথা বলে কল্যাণ কি দলের দীর্ঘদিনের কোনো অস্বস্তির কথা উসকে দিলেন? এই বার্তার পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেননি কাকলি-পুত্র বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি ‘উকিলবাবু’ বলে একাধিক পোস্ট করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, তৃণমূলের অন্দরে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এমন ‘সুর’ নতুন নয়। গত বছর ২০২৫ সালের অগস্টে তিনি মুখ্যসচেতক পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে প্রকাশ্যে এনেছিলেন দলের অন্তর্দ্বন্দ্ব। সেই সময় সাংসদ মহুয়া মৈত্রের সঙ্গে তাঁর সংঘাত চরমে উঠেছিল। লোকসভার দলনেতা হিসেবে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জায়গায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ঘোষণা হওয়া নিয়েও দলের অন্দরে অনেক জলঘোলা হয়েছিল। যদিও বিধানসভা নির্বাচনের পর কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে সরিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবারও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কেই তাঁর পুরনো দায়িত্ব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্ষমতা হারানোর পর তৃণমূল কংগ্রেস বর্তমানে এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। একদিকে দলের অন্দরে নতুন নেতৃত্বের চাহিদা, অন্যদিকে পুরনো ও নতুনদের সংঘাত—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি বেশ জটিল। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ইস্তফা এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ‘বিস্ফোরক’ বার্তা প্রমাণ করে যে, দলের অভ্যন্তরে চাপা ক্ষোভ এখন আর পর্দার আড়ালে নেই। এই ইস্তফা কি কেবল একটি সাংগঠনিক বদল, নাকি বড় কোনো বিদ্রোহের সূত্রপাত? উত্তর দেবে সময়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তৃণমূল যে এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।