ভেঙে পড়ার অপেক্ষায় মেসির ৪৪ ফুটের মূর্তি! লেকটাউনের ব্যস্ত মোড়ে চূড়ান্ত সতর্কতা, বড় পদক্ষেপ প্রশাসনের

কলকাতার লেকটাউনের ব্যস্ততম মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা সুজিত বসুর তৈরি সুউচ্চ মেসির মূর্তি নিয়ে ছড়িয়েছে চরম আতঙ্ক। ৪৪ ফুট উচ্চতার এই মূর্তিটি বর্তমানে এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে যে, সামান্য ঝোড়ো হাওয়ায় সেটি দুলতে শুরু করে। যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের অঘটন ঘটে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবার সরাসরি হস্তক্ষেপ করল উত্তর ২৪ পরগনা জেলা শাসকের দফতর। মূর্তির নিরাপত্তার স্বার্থে সেটিকে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার সকালেই পূর্ত দফতরের (PWD) এক উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের একটি দল লেকটাউনের ওই এলাকাটি পরিদর্শন করেন। মূর্তির বর্তমান পরিকাঠামো খতিয়ে দেখে তাঁরা স্পষ্টতই উদ্বিগ্ন। তাঁদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মূর্তিটির গঠনগত স্থায়িত্ব নিয়ে বড় ধরনের ত্রুটি রয়েছে। ফাইবার দিয়ে তৈরি এই মূর্তির ভেতরের অনেকটা অংশ ফাঁপা। সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হলো, যে কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে মূর্তিটি দাঁড়িয়ে রয়েছে, তার নির্মাণশৈলীও সঠিক মানদণ্ড মেনে হয়নি। ফলে জোরে হাওয়া দিলে বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়লে মূর্তিটি যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে।
জেলা শাসকের নির্দেশ অনুযায়ী, মূর্তিটিকে অক্ষত অবস্থাতেই নামিয়ে ফেলতে হবে। কিন্তু পূর্ত দফতরের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এর পদ্ধতি। ব্যস্ততম রাস্তার মোড়ে অবস্থিত এই ৪৪ ফুটের মূর্তিটি নিরাপদে নামানো এক জটিল প্রকৌশলগত কাজ। বিশেষ করে, রাস্তার দু’দিকেই জনবহুল ও যানচলাচলপূর্ণ রাস্তা থাকায় সামান্য অসতর্কতায় বড় বিপত্তি ঘটতে পারে।
এই জটিল কাজ সম্পন্ন করার জন্য পূর্ত দফতর ইতিমধ্যে যোগাযোগ করেছে মূর্তির শিল্পী মন্টি পালের সঙ্গে। মূর্তির গঠন সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো ধারণা থাকা শিল্পীই এখন এই বিপর্যয় মোকাবিলার প্রধান ভরসা। অক্ষত অবস্থায় মূর্তিটি কীভাবে সরিয়ে ফেলা যায়, সে বিষয়ে তাঁর পরামর্শ ও সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, লেকটাউনের এই মোড় দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। এমন ব্যস্ত এলাকায় মূর্তিটি ভেঙে পড়ার ঝুঁকি মেনে নিতে নারাজ প্রশাসন। যদিও মূর্তিটি সরানোর প্রক্রিয়া কবে নাগাদ শুরু হবে বা তার পরবর্তী গন্তব্য কী হবে, তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো ঘোষণা আসেনি। তবে জনগণের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে প্রশাসন যে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে চলেছে, তা নিশ্চিত। আপাতত জেলা প্রশাসনের এই নির্দেশ বাস্তবায়িত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। যে কোনো অঘটন এড়াতে মূর্তির আশপাশে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও তুলেছেন অনেকে।