রাজ্য রাজনীতিতে এখন সবথেকে বেশি চর্চার বিষয়—আগামী ২২ জুন পেশ হতে চলা নতুন সরকারের প্রথম বাজেট। রাজ্যের দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই মুখ্যমন্ত্রী ও অর্থ দফতরের জন্য সবথেকে বড় পরীক্ষা। পূর্ববর্তী সরকারের সময় তৈরি হওয়া বিপুল ঋণের বোঝা এবং অর্থনৈতিক অচলাবস্থা কাটানোর চ্যালেঞ্জ নিয়েই শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার তাদের প্রথম বাজেট পেশ করতে চলেছে।
বাজেটের মূল লক্ষ্য: নতুন সরকারের নথিপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, এই বাজেটের মূল লক্ষ্য হতে চলেছে ‘ঋণমুক্ত বাংলা’ গড়া। সরকারি কোষাগারে যে বিশাল আর্থিক ঘাটতি রয়েছে, তা সামাল দিয়ে কীভাবে উন্নয়নমূলক কাজ চালু রাখা যায়, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই অর্থ ও পরিকল্পনা দফতরে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে।
বাজেটে যেসব বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হতে পারে:
আর্থিক সুশাসন: অপচয় কমানো এবং সরকারি খরচে রাশ টানা হতে পারে। নতুন প্রকল্পের ঘোষণার চেয়ে বকেয়া মেটানো ও রাজকোষের স্থায়িত্ব ফেরানোর ওপর জোর দেওয়া হবে।
শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ: শুধুমাত্র সরকারি চাকরির ওপর নির্ভর না করে, রাজ্যে কীভাবে ভারী শিল্প আনা যায় এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যায়, তার একটি রোডম্যাপ এই বাজেটে থাকতে পারে। বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে বিশেষ আর্থিক ছাড়ের ঘোষণাও আসতে পারে বলে খবর।
কর্মসংস্থান: নতুন সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান। শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে কীভাবে বেসরকারি বিনিয়োগ আনা যায়, তা নিয়েও সরকার সক্রিয়।
চ্যালেঞ্জের পাহাড়: শুভেন্দু অধিকারীর সামনে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ—বিপুল ঋণ মেটানোর পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো কীভাবে অক্ষুণ্ণ রাখা হবে। বিরোধী দলগুলো অবশ্য এই বাজেট নিয়ে আগে থেকেই সন্দিহান। তাদের মতে, বিপুল ঋণের চাপে বাজেট কতটা বাস্তবসম্মত হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যাচ্ছে।
তবে নবান্নের অন্দরের খবর, এই বাজেট হবে ‘বাস্তবমুখী এবং লক্ষ্যভিত্তিক’। ২২ জুন বিধানসভায় বাজেট পেশ হওয়ার পর বোঝা যাবে, নতুন সরকার বাংলার অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মোড় ঘোরাতে কতটা সক্ষম হয়।





