তেলেঙ্গানায় পরকীয়ার জেরে এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। প্রেমিকের সাথে হাত মিলিয়ে নিজের স্বামীকে খুন করার পর, প্রমাণ লোপাটের জন্য মৃতদেহ কৃষিজমিতে পুঁতে দেওয়ার অভিযোগ উঠল এক মহিলার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে তেলেঙ্গানার মেদক জেলায়, যা স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
অভিযুক্ত মহিলা কল্পনার স্বামী মুথয়ম রেড্ডি (৪২) গত ১৮ মে থেকে নিখোঁজ ছিলেন। নিখোঁজ হওয়ার পরপরই স্ত্রী কল্পনা থানায় স্বামীর নামে একটি নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের করেন। প্রাথমিকভাবে এটি নিছক একটি নিখোঁজের ঘটনা বলে মনে হলেও, পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ঘটনার মোড় ঘোরে যখন পুলিশ কল্পনার মোবাইল ফোনের কল ডেটা খতিয়ে দেখে। তদন্তে দেখা যায়, কল্পনা এলগোই গ্রামের বাসিন্দা গাইনি পান্ডারি ওরফে চিন্টু নামক এক ব্যক্তির সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় পুলিশ জানতে পারে, গত কয়েক মাস ধরে কল্পনা ও চিন্টুর মধ্যে গভীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। মুথয়ম রেড্ডি বিষয়টি জেনে ফেলায় সংসারে প্রায়ই অশান্তি লেগেই থাকত। পুলিশের ধারণা, মুথয়ম তাদের সম্পর্কের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, তাই তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার ছক কষেন প্রেমী যুগল।
ডিপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ (ডিএসপি) ভেঙ্কট রেড্ডি জানান, “দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর অভিযুক্তরা খুনের দায় স্বীকার করেছে। ঘটনার দিন এলগোই গ্রামের উপকণ্ঠে মুথয়মকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।” খুনের পর নিজেদের অপরাধ আড়াল করতে তারা এক অমানবিক উপায় বেছে নেয়। একটি জেসিবি মেশিন ভাড়া করে তারা জনশূন্য কৃষিজমিতে গভীর গর্ত খোঁড়ে এবং মুথয়মের দেহ সেখানে পুঁতে দেয়। যাতে কারও সন্দেহ না হয়, তাই মাটি ও পাথর দিয়ে গর্তটি ভরাট করে দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, কল্পনা পেশায় একজন নার্স, তিনি নারায়ণখেড়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। অন্যদিকে মুথয়ম পেশায় ছিলেন পাতকুয়োর মিস্ত্রি। ২০১২ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এই দম্পতির দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। মুথয়মের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, চিন্টুর সাথে সম্পর্কের কথা জানার পর থেকেই মুথয়ম স্ত্রীকে বারবার সতর্ক করেছিলেন। সেই সতর্কবার্তাই যে তাঁর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।
বর্তমানে পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহটি কবর থেকে তোলার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ডিএসপি জানিয়েছেন, এই হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এক মুহূর্তের ভুল সিদ্ধান্ত এবং পরকীয়ার নেশা কীভাবে একটি সুখী পরিবারকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিল, এই ঘটনাটি তারই এক মর্মান্তিক নজির হয়ে রইল।





