মে মাসের শেষ সপ্তাহ নিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের মনে যে দুশ্চিন্তা দানা বেঁধেছিল, তার অবসান ঘটল। বেতন বৈষম্য দূরীকরণ, নতুন নিয়োগ এবং পদোন্নতির মতো একগুচ্ছ দাবিকে সামনে রেখে ২৫ ও ২৬ মে এসবিআই স্টাফ ফেডারেশন যে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল, তা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। কর্মী সংগঠনের এই সিদ্ধান্তের ফলে টানা পাঁচ দিন ব্যাঙ্ক পরিষেবা বন্ধ থাকার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা থেকে রেহাই পেলেন গ্রাহকরা।
ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২৩ মে থেকে ২৭ মে পর্যন্ত পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার কথা ছিল। তার ওপর ২৭ ও ২৮ মে বকরি ইদের ছুটি থাকায় দীর্ঘ সময় ব্যাঙ্ক বন্ধের আশঙ্কা ছিল। কিন্তু এসবিআই কর্মী সংগঠনের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, আপাতত তারা ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে। ফলে আজ, অর্থাৎ সপ্তাহের শুরুতেই স্বাভাবিক ছন্দে ফিরেছে ব্যাঙ্ক পরিষেবা। এই খবরে স্বাভাবিকভাবেই হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন সাধারণ গ্রাহক থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী মহল।
তবে মে মাসের এই স্বস্তির পাশাপাশি জুন মাসের ব্যাঙ্ক ছুটির তালিকাও তৈরি রাখা জরুরি। জুন মাসে দেশজুড়ে বিভিন্ন উৎসব ও বিশেষ দিবস উপলক্ষ্যে প্রায় ১৫ দিন ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকবে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ছুটির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, জুন মাসে ছুটির মরসুম বেশ দীর্ঘ।
জুন মাসে ছুটির বিস্তারিত খতিয়ান:
১ জুন মিজোরাম ও ওড়িশায় ব্যাঙ্ক পরিষেবা বন্ধ থাকবে। ২৫ জুন মহরম উপলক্ষ্যে অন্ধ্রপ্রদেশে ছুটি থাকবে। ২৬ জুন মহরম উপলক্ষ্যে ত্রিপুরা, মিজোরাম, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, তামিলনাড়ু, জম্মু ও কাশ্মীর, উত্তরপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, দিল্লি, বিহার, ঝাড়খণ্ড এবং ছত্তিশগড়ে ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকবে। এছাড়াও হিমাচল প্রদেশে সন্ত গুরু কবীর জয়ন্তী উপলক্ষ্যে ছুটি থাকবে। ৩০ জুন মিজোরামে ‘রেমনা নি’ উৎসবের জন্য ব্যাঙ্কিং পরিষেবা বন্ধ রাখা হবে।
সাপ্তাহিক ছুটির ক্ষেত্রে জুন মাসে ৭ জুন (রবিবার), ১৩ জুন (দ্বিতীয় শনিবার), ১৪ জুন (রবিবার), ২১ জুন (রবিবার), ২৭ জুন (চতুর্থ শনিবার) এবং ২৮ জুন (রবিবার) ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকবে। গ্রাহকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, কোনো জরুরি কাজ থাকলে এই তালিকাটি দেখে আগেভাগেই সেরে নিতে। বিশেষ করে ডিজিটাল লেনদেন বা এটিএম পরিষেবা ব্যবহারের ক্ষেত্রে ছুটির দিনগুলোর কথা মাথায় রাখা প্রয়োজন। ব্যাঙ্ক খোলা থাকলেও জরুরি প্রয়োজনে গ্রাহকরা অনলাইন বা মোবাইল ব্যাঙ্কিং পরিষেবা অনায়াসেই ব্যবহার করতে পারেন। আপাতত মে মাসের শেষ সপ্তাহের ঝক্কি কেটে যাওয়ায় স্বাভাবিক পরিষেবা নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি রইল না।





