রাজ্যের শাসনক্ষমতায় থাকা রাজনৈতিক দলের নেতাদের নাম জড়িয়ে নানা দুর্নীতির কথা মাঝেমধ্যেই সামনে আসে। কিন্তু এবার যে অভিযোগ উঠল, তা যেমন বিড়ম্বনার, তেমনই হাস্যকর। খোদ তৃণমূল বিধায়কের দেওয়া অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করে চালানো হচ্ছিল ছাগল চুরির কারবার! এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে হুগলির দাদপুর থানা এলাকায়। ঘটনায় তিন তৃণমূল কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
দীর্ঘদিন ধরেই হুগলির দাদপুর গ্রামে মাঝেমধ্যেই গৃহস্থের বাড়িতে পোষা ছাগল চুরি হওয়ার অভিযোগ আসছিল। গ্রামবাসী থেকে শুরু করে স্থানীয়রা একাধিকবার দাদপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। কিন্তু দিনের পর দিন চোরেরা এতটাই দক্ষ ছিল যে, পুলিশের চোখের আড়ালে তারা দিব্যি ছাগল নিয়ে উধাও হয়ে যাচ্ছিল। বারবার অভিযোগ করেও কোনো সুরাহা না মেলায় হতাশ হয়ে পড়েছিলেন গ্রামবাসীরা।
অবশেষে শুক্রবার রাতে চুরির ঘটনার পর পরিস্থিতির মোড় ঘোরে। সুশান্ত গড়াই নামে গ্রামের এক বাসিন্দার বাড়ি থেকে চারটি ছাগল চুরি যায়। ঘটনার আকস্মিকতায় গ্রামবাসীরা ক্ষোভে ফুঁসতে থাকেন। দ্রুত দাদপুর থানায় খবর দেওয়া হয়। সক্রিয় হয়ে ওঠে দাদপুর থানা। ওসির নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তল্লাশিতে নামে।
শনিবার ভোররাতে দাদপুর থানার সারখোলা গ্রামে পুলিশের টহলদারি দল একটি অ্যাম্বুলেন্সকে সন্দেহজনক অবস্থায় দেখতে পায়। গাড়িটিকে থামিয়ে তল্লাশি চালাতেই চক্ষু চড়কগাছ পুলিশের! অ্যাম্বুলেন্সের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় দুটি চোরাই ছাগল। তদন্তে জানা যায়, এই অ্যাম্বুলেন্সটি ধনিয়াখালির বিধায়ক অসীমা পাত্রের তহবিলের অনুদানে পাওয়া।
ঘটনাস্থল থেকেই তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে দাদপুর থানার পুলিশ। ধৃতদের নাম আহমেদ আলি সরকার, দীপঙ্কর রায় ও রজত ক্ষেত্রফল। জানা গেছে, অভিযুক্ত আহমেদ আলি ওই অ্যাম্বুলেন্সের চালক। প্রাথমিক জেরায় ধৃতরা নিজেদের দোষ স্বীকার করেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত এই তিন ব্যক্তি এলাকায় সক্রিয় তৃণমূল কর্মী হিসেবে পরিচিত। বিধায়কের দেওয়া অ্যাম্বুলেন্সকে যে এভাবে অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল, তা জেনে হতবাক স্থানীয় মানুষ। ধৃতদের রবিবার চুঁচুড়া আদালতে পেশ করা হয়েছে। বিধায়কের দেওয়া পরিষেবাকে এভাবে কালিমালিপ্ত করায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহলেও গুঞ্জন শুরু হয়েছে।





