বিশ্বের দুই শক্তিশালী রাষ্ট্রনেতা ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং শি জিনপিং সম্প্রতি বেজিংয়ে আলোচনার টেবিলে বসেছেন। ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ, তাইওয়ান পরিস্থিতি এবং ক্রমবর্ধমান পরমাণু অস্ত্রের প্রসার—এই জটিল ইস্যুগুলিই ছিল আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু। বাইরে শান্তির বার্তা শোনালেও, আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, বেজিং আস্তিনের নিচে নিজেদের সামরিক শক্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে নিয়েছে, যা সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে ওয়াশিংটনকে।
ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলমান তৃতীয় মাসের যুদ্ধে শান্তি ফেরাতে ট্রাম্প ও শি বৈঠক করলেও, পর্দার আড়ালে ড্রাগনের তৎপরতা ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। পাকিস্তান যদিও এই যুদ্ধবিরতির দালালি করছে, কিন্তু চিনের অবস্থান আরও ধূর্ত। একদিকে তারা শান্তি আলোচনার কথা বলছে, অন্যদিকে গোয়েন্দা রিপোর্টের দাবি—ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে বেজিং। তাদের লক্ষ্য স্পষ্ট: ২০২৭ সালের মধ্যে এমন এক সামরিক পরিকাঠামো গড়ে তোলা, যা আমেরিকার মতো মহাশক্তিকেও চাপে ফেলবে।
চিনের এই সামরিক উত্থানের মূলে রয়েছে তিনটি বিশেষ ‘ভীতিকর’ প্রযুক্তি:
১. ড্রোন মাদারশিপ ‘জিউ তিয়ান’ (নাইনথ হেভেন): এটি কেবল একটি ড্রোন নয়, এটি আকাশে চলমান একটি ছোটখাটো বিমানঘাঁটি। ১৬ হাজার কেজি ওজনের এই মাদারশিপ থেকে যুদ্ধের সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেরিয়ে আসবে শত শত আত্মঘাতী ড্রোন ও মিসাইল। একটানা ৭০০০ কিলোমিটার পাড়ি দিতে সক্ষম এই ‘জিউ তিয়ান’ ২০২৪ সাল থেকেই চিনা ডিফেন্সের মেরুদণ্ড হয়ে উঠেছে। এর ভেতরে থাকা এআই-নিয়ন্ত্রিত সোয়ার্ম ড্রোনের ঝাঁক যে কোনো শক্তিশালী এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমকে নিমিষেই অকেজো করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
২. হাইপারসনিক মিসাইল ভাণ্ডার: প্রশান্ত মহাসাগরে মার্কিন চর জাহাজ বা ক্যারিয়ার গ্রুপগুলোকে লক্ষ্য করে চিন তৈরি করেছে DF-17 মিসাইল। এই মিসাইলগুলো অত্যন্ত দ্রুত এবং মাঝ আকাশেই এদের গতিপথ পাল্টানো সম্ভব। এছাড়াও YJ-21 এবং ২০-এর মতো অ্যারো-ব্যালিস্টিক মিসাইলগুলো শব্দের চেয়ে কয়েক গুণ দ্রুত ছুটতে পারে। আমেরিকার বর্তমান এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের কাছে এই মিসাইলগুলোর কোনো কার্যকর জবাব নেই। ২০২৬ সালের গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, চিনের এই মিসাইল ভাণ্ডার মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ।
৩. পরমাণু অস্ত্র ভাণ্ডারে বিস্ফোরণ: গত কয়েক বছরে চিন তাদের পরমাণু বোমার সংখ্যা ৬২০-এর উপরে নিয়ে গেছে এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে এই লক্ষ্যমাত্রা ১৫০০ ছাড়িয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে। পশ্চিম চিন জুড়ে ৩০০-র বেশি ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইল (ICBM) মোতায়েন করে রেখেছে বেজিং, যা জল, স্থল ও আকাশ—তিন পথ থেকেই পরমাণু হামলা চালাতে সক্ষম।
শুধু এগুলিই নয়, FH-97 কমব্যাট এয়ারক্রাফট বা JG13-এর মতো মনুষ্যহীন যুদ্ধের যন্ত্রগুলো সীমান্ত পাহারায় নামিয়েছে চিন। এমনকি মার্কিন স্যাটেলাইটের নজর এড়িয়ে গোপনে মজুত করা হয়েছে DF-26D-র মতো ‘গুয়াম কিলার’ মিসাইল। পেন্টাগনের কর্তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিয়ে চিন এখন এমন এক রণকৌশল সাজিয়েছে, যেখানে মানুষ ছাড়াই নিয়ন্ত্রিত হবে ভয়াবহ যুদ্ধ। ট্রাম্পের এই বেজিং সফরের মূল লক্ষ্য ছিল এই সামরিক দৌড়কে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনা। এখন দেখার, শান্তির আলোচনার আড়ালে এই ‘ড্রাগন’ আদৌ শান্ত হয় কি না!





