ফলতায় ভোটগণনার পঞ্চম রাউন্ড শেষে রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে। বর্তমান ফলাফল অনুযায়ী, বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডা প্রতিদ্বন্দ্বীদের থেকে যোজন দূর ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। প্রতিটি রাউন্ডে ধারাবাহিক সাফল্য বজায় রেখে তিনি জয়ের পথে অনেকটা এগিয়ে গিয়েছেন। পঞ্চম রাউন্ড গণনা শেষে বিজেপি প্রার্থীর লিড বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪,৫১৪ ভোটে।
চতুর্থ রাউন্ড গণনা শেষে দেবাংশু পণ্ডা ২৫,৪৩৮ ভোট পেয়েছিলেন। সেই সময় তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সিপিএম প্রার্থী শম্ভুনাথ কুড়মির ঝুলিতে ছিল ১১,৩৪৫ ভোট। কংগ্রেস প্রার্থী আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা পেয়েছিলেন ২,৯৯৬ ভোট এবং তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের প্রাপ্ত ভোট ছিল ১,৪০৫। পঞ্চম রাউন্ড শেষেও এই ব্যবধানের খুব একটা পরিবর্তন হয়নি, বরং বিজেপি প্রার্থীর শক্ত অবস্থান আরও নিশ্ছিদ্র হয়েছে। ভোটের ব্যবধান ক্রমাগত বাড়ায় রাজনৈতিক মহলে দেবাংশু পণ্ডার জয় এখন সময়ের অপেক্ষা বলে মনে করা হচ্ছে।
সিপিএম প্রার্থী শম্ভুনাথ কুড়মি দ্বিতীয় স্থানে লড়াইয়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ব্যবধান অনেকটা বেশি হলেও দলের কর্মী-সমর্থকদের কাছে দ্বিতীয় স্থানটি ধরে রাখাই এখন নৈতিক জয়। তবে ফলতার বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বামেদের সংগঠনগত শক্তি কতটা টিকে রয়েছে, তা নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, কংগ্রেস প্রার্থী আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা তৃতীয় স্থানে রয়েছেন। নির্দিষ্ট কিছু বুথে তাঁর প্রভাব থাকলেও মূল লড়াই থেকে তিনি অনেকটা দূরে।
চতুর্থ স্থানে থাকা তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের পারফরম্যান্স শাসকদলের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পঞ্চম রাউন্ড পর্যন্ত তাঁর অবস্থান আশানুরূপ না হওয়ায় স্থানীয় স্তরে সংগঠনের দুর্বলতা নিয়ে দলের অন্দরে আত্মসমালোচনার সুর শোনা যাচ্ছে। ফলতার মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে তৃণমূলের এমন শোচনীয় ফলাফল রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অবাক করেছে।
সামগ্রিকভাবে, ফলতার নির্বাচনী চিত্র বিজেপি প্রার্থীর দিকে ঝুঁকে রয়েছে। দেবাংশু পণ্ডার এই ধারাবাহিক এগিয়ে থাকা গেরুয়া শিবিরে প্রবল উচ্ছ্বাসের জন্ম দিয়েছে। বিরোধীরা এখন কেবল ব্যবধান কমানোর লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ রয়েছে। পরবর্তী রাউন্ডের গণনায় কী চমক থাকে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





