সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসাথী ও চিকিৎসা সংক্রান্ত দুশ্চিন্তা লাঘব করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। শুক্রবার এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করলেন, ‘অমৃত ভারত’ প্রকল্পের আওতায় দুরারোগ্য ব্যাধির ওষুধে ৫০ শতাংশ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বিশেষ ছাড় পাবেন সাধারণ মানুষ। এই সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার খরচ অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমান সময়ে বিশেষ করে ক্যানসার, কিডনি বা হার্টের মতো দুরারোগ্য অসুখের ওষুধ কিনতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলির নাভিশ্বাস ওঠে। সেই কথা মাথায় রেখেই রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই বিশাল ছাড়ের ব্যবস্থা করছে। যারা এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত হবেন, তারা নামী ব্র্যান্ডের ওষুধের পরিবর্তে সমমানের জেনেরিক ওষুধ অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে কিনতে পারবেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা স্বাস্থ্যক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছে সাধারণ মানুষ।
শুধু ওষুধের দাম কমানোই নয়, স্বাস্থ্য পরিষেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে ওষুধের সুলভতা নিশ্চিত করতে ‘প্রধানমন্ত্রী জনৌষধি কেন্দ্র’-এর সংখ্যা ব্যাপকভাবে বাড়ানো হবে। বর্তমানে রাজ্যে যে কটি কেন্দ্র রয়েছে, সেগুলিকে বাড়িয়ে মোট ৪৬৯টি কেন্দ্রে উন্নীত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত এই কেন্দ্রগুলির জন্য স্থান নির্বাচন ও পরিকাঠামো তৈরির কাজ শুরু হবে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “স্বাস্থ্য পরিষেবা মানুষের অধিকার। কিন্তু ওষুধের চড়া দাম অনেক সময় বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আমরা চাই বাংলার প্রতিটি মানুষ যেন টাকার অভাবে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন।” এই নতুন কেন্দ্রগুলি চালু হলে রাজ্যের দূর-দূরান্তের গ্রামগুলোতেও মানুষ সুলভ মূল্যে ওষুধ পাবেন, যা স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় এক বড় পরিবর্তন আনবে।
প্রশাসনের সূত্রে খবর, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য জেলা স্তরে বিশেষ মনিটরিং কমিটি গঠন করা হবে। কোনোভাবেই যাতে ওষুধের গুণমান নিয়ে আপস না হয়, তার ওপর নজরদারি চালানো হবে। সাধারণ মানুষকে এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে নিকটবর্তী সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা জনৌষধি কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হয়েছে। একদিকে ওষুধের দামে অভূতপূর্ব ছাড় এবং অন্যদিকে পর্যাপ্ত ওষুধের দোকানের জোগান—এই দুইয়ের সমন্বয়ে রাজ্যের সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় অনেকটা কমবে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
আগামী দিনে এই প্রকল্প কীভাবে রূপায়িত হয় এবং এর সুফল সাধারণ মানুষ কতটা দ্রুত পান, সেটাই এখন দেখার বিষয়। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা রাজ্যের স্বাস্থ্য মানচিত্রে এক নতুন ইতিবাচক দিশা দেখাল।





