নিয়োগে আসছে বড় বদল! মৌখিক পরীক্ষার গুরুত্ব কমিয়ে লিখিততেই জোর, বড় ঘোষণা শুভেন্দুর

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এবার আসতে চলেছে আমূল পরিবর্তন। দীর্ঘদিনের নিয়োগ দুর্নীতি এবং অস্বচ্ছতার অভিযোগ কাটিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর বার্তা দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার একটি রোজগার মেলায় দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্ট করলেন, আগামী দিনে রাজ্যের সরকারি পরীক্ষায় মৌখিক বা ইন্টারভিউয়ের নম্বরের গুরুত্ব কমিয়ে লিখিত পরীক্ষা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার ওপরই অধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে।

শুভেন্দু অধিকারী এদিন বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে মৌখিক পরীক্ষার ওপর অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা তৈরি করে। আমরা চাই মৌখিক পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে ন্যূনতম পর্যায়ে নিয়ে আসতে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে লিখিত পরীক্ষার নম্বর এবং মেধা তালিকা রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। হোয়্যাটসঅ্যাপ মেসেজের মাধ্যমে আর কোনো নিয়োগ বা অ্যাপয়েন্টমেন্ট হতে দেওয়া হবে না।”

নিয়োগ দুর্নীতির ফলে রাজ্যের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, তা নিয়ে এদিন ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি, পুরসভায় দুর্নীতি এবং হাইকোর্টের নির্দেশে হাজার হাজার চাকরি বাতিলের মতো ঘটনা পশ্চিমবঙ্গকে কলঙ্কিত করেছে। এই দুর্নীতির জেরে রেলের মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোও পশ্চিমবঙ্গে পরীক্ষা কেন্দ্র নিতে ভয় পাচ্ছিল। আমাদের রাজ্যের যুবক-যুবতীদের পরীক্ষা দিতে ওড়িশা, অসম বা বিহারে যেতে হচ্ছিল। এই পরিস্থিতি থেকে পশ্চিমবঙ্গকে বের করে আনাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”

পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে শুভেন্দু অধিকারী আরও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি জানান, পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরেই ওএমআর (OMR) শিটের কার্বন কপি পরীক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। এতদিন পর্যন্ত সরকারি পরীক্ষায় এই ব্যবস্থা না থাকায় দুর্নীতির সুযোগ থাকত বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, “আমি আধিকারিকদের জিজ্ঞাসা করেছিলাম কেন কার্বন কপি দেওয়া হয় না? এটা আসলে নেপোটিজম এবং দুর্নীতির পথ সুগম করে। আমরা পরবর্তী বিধানসভা অধিবেশনে এই সংক্রান্ত নতুন বিল আনব।”

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “আমরা ১০০ পয়েন্ট রোস্টার এবং ১০০ শতাংশ কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে চাই, যা সংবিধান অনুযায়ী বাধ্যতামূলক। মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা এবং পরীক্ষাকেন্দ্রের পবিত্রতা বজায় রাখাই আমাদের সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য।” শুভেন্দু অধিকারীর এই ঘোষণা রাজ্যজুড়ে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। আগামী বিধানসভা অধিবেশনে এই নতুন নিয়োগ নীতি পাস হলে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি চাকরির ইতিহাসে তা এক নতুন যুগের সূচনা করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy