পর্যটন মানচিত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংযোগকারী পথ রোহিণী রোড। দীর্ঘদিনের বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে এই রাস্তায় টোল ট্যাক্স আদায় বন্ধের চূড়ান্ত ঘোষণা এল। গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ) এবং দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তার সম্মতিতে আগামী ১ জুন থেকে রোহিণী টোল প্লাজায় আর কোনও টোল ট্যাক্স আদায় করা হবে না।
সাংসদের হুঙ্কার ও বিতর্ক: রোহিণী রোডে টোল আদায়ের বৈধতা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই সরব ছিলেন বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা। শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, “আগামী ৩১ মে-র পর রোহিণী গেটে টোল সংগ্রহ আর চলতে দেওয়া হবে না।” সাংসদের দাবি, ২৫ বছর আগে নির্মিত এই রাস্তার জন্য এখনও টোল আদায় সম্পূর্ণ অবৈধ। কেবল রোহিণী নয়, শিলিগুড়ি সংলগ্ন ফুলবাড়িতে এসজেডিএ-র টোল গেটের বৈধতা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।
জিটিএ-র অবস্থান ও অনীত থাপার ঘোষণা: উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই জিটিএ-র মুখ্য কার্যপালক অনীত থাপা টোল বাতিলের সরকারি প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা করেন। অনীত থাপা বলেন, “জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করেই ১ জুন থেকে টোল প্লাজা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। টেন্ডারপ্রাপ্ত সংস্থাকে সরকারি নোটিশ পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।”
টোল আদায়ের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, ২০১১ সাল থেকে রাস্তার রক্ষণাবেক্ষণের খরচ মেটাতেই এই ব্যবস্থা ছিল। তবে এখন স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে রোহিণী রোডটিকে রাজ্যের পূর্ত দফতরের (PWD) হাতে তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, বাজেটের সীমাবদ্ধতার কারণে জিটিএ-র পক্ষে রাস্তার মান বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছিল।
কর্মীদের ভবিষ্যৎ ও রাজনীতির মারপ্যাঁচ: টোল গেট বন্ধ হওয়ার পর সেখানে কর্মরত ১৭ জন কর্মীর ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। পাশাপাশি, জিটিএ-র এই প্রস্তাব রাজ্য সরকার গ্রহণ করবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। যদিও এই টোল বাতিলের বিষয়টিকে ঘিরে সাংসদ এবং জিটিএ-র মুখপাত্র শক্তিপ্রসাদ শর্মার মধ্যে রাজনৈতিক তরজাও প্রকাশ্যে এসেছে। সাংসদের ঘোষণাকে ‘মস্তানি’ বলে কটাক্ষ করে জিটিএ মুখপাত্র দাবি করেছিলেন, সম্পূর্ণ আইন মেনেই এই টোল আদায় হচ্ছিল।
তবে রাজনৈতিক উত্তাপের ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ পর্যটক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা এই সিদ্ধান্তে আপাতত স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন। এখন দেখার বিষয়, ১ জুনের পর প্রশাসন পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে।





