পর্যটন যেকোনো দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখে, কিন্তু অতিরিক্ত পর্যটনের ভিড় প্রায়শই আশীর্বাদের বদলে অভিশাপ হয়ে দাঁড়ায়। অনিয়ন্ত্রিত পর্যটনের প্রভাবে বিশ্বের বেশ কিছু ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক বিস্ময় এখন ধ্বংসের মুখে।
পেরুর মাচু পিচু, যা বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্যের অন্যতম, অতিরিক্ত পর্যটকদের চাপে রীতিমতো বিপন্ন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কর্তৃপক্ষ এখন দর্শক সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। একইভাবে, ক্রোয়েশিয়ার ডুব্রোভনিক শহর, যা জনপ্রিয় সিরিজ ‘গেম অফ থ্রোনস’-এর সুবাদে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পায়, সেখানে অতিরিক্ত ভিড়ে ঐতিহাসিক স্থাপত্যগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
একই হাল ইকুয়েডরের গালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জের। পর্যটকদের ব্যাপক আনাগোনায় সেখানকার বিরল উদ্ভিদ ও প্রাণীজগতের বাস্তুসংস্থান চরম হুমকির মুখে পড়েছে। অন্যদিকে, জর্ডানের ‘রোজ সিটি’ খ্যাত পেট্রা পর্যটকদের দ্বারা সৃষ্ট বর্জ্য ও ভিড়ের কারণে তার আদি সৌন্দর্য হারাচ্ছে। এছাড়া, ফ্রান্সের ল্যাসকক্স গুহা, যেখানে দুই হাজার বছরের পুরনো গুহাচিত্র রয়েছে, অতিরিক্ত মানুষের আগমনে সেগুলোর মান খারাপ হতে থাকায় ১৯৬৩ সাল থেকে এটি জনসাধারণের জন্য স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত পর্যটন বা ‘ওভার ট্যুরিজম’ যে পরিবেশ ও ঐতিহ্যের জন্য কতটা ক্ষতিকর, এই স্থানগুলো তার জ্বলন্ত প্রমাণ। সময় থাকতে সচেতন না হলে বিশ্বের এই অমূল্য সম্পদগুলো হয়তো আগামী প্রজন্মের জন্য শুধুই স্মৃতি হয়ে থাকবে।





