দিল্লির জামিয়া নগর থানা এলাকায় এক ২৩ বছর বয়সী দলিত তরুণীকে অপহরণ, জোর করে ধর্মান্তরণ, বিয়ে এবং দীর্ঘ সময় ধরে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ সামনে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই চারজনকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। মূল অভিযুক্ত সহ মোট ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে: অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তরা সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে ওই তরুণীর সঙ্গে পরিচয় গড়ে তোলে। প্রধান অভিযুক্ত ফহিম নিজেকে ‘সাহিল’ নামে এক হিন্দু যুবক হিসেবে পরিচয় দিয়েছিল। ২০২১ সালে তরুণীকে অপহরণ করা হয় বলে অভিযোগ। এরপর তাঁকে জোর করে বিয়ে, ধর্মান্তরণ এবং পরবর্তী চার বছর ধরে (২০২১-২০২৫) লাগাতার ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। দীর্ঘদিনের এই নরকযন্ত্রণা থেকে কোনোভাবে পালিয়ে এসে গত ১৪ মে ভুক্তভোগী তরুণী জামিয়া নগর থানায় অভিযোগ দায়ের করলে ঘটনার মোড় ঘুরে যায়।
পুলিশি তৎপরতা ও গ্রেফতার: তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৬৬ (অপহরণ), ৩৭৬ (ধর্ষণ), ৫০৬ (হুমকি), ৩৪২ (আটক) এবং ১২০বি (ষড়যন্ত্র) সহ একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ফহিম বর্তমানে উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের দাসনা জেলে অন্য একটি মামলায় বন্দী রয়েছে। এছাড়াও ফহিমের মা তসলিমা, বাবা খুরশিদ, ভাই জায়েদ এবং মৌলবি মোহাম্মদ খালিদকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তদন্তের পরবর্তী ধাপ: পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে যে, মূল অভিযুক্ত ফহিমের বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকারও অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ফহিমকে ট্রানজিট রিমান্ডে দিল্লিতে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং ঘটনার পুনর্গঠন করার জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিয়ে যাওয়া হবে। যদিও এখনো পর্যন্ত কোনো অস্ত্র উদ্ধার হয়নি।
বর্তমানে ধৃত চারজনকে জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। রাজধানীর মতো জায়গায় এত দীর্ঘ সময় ধরে একজন তরুণীর ওপর চালানো এই অমানবিক নির্যাতনের ঘটনা জনমনে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করেছে।





