“মোদীকে ঝালমুড়ি খাইয়েই বিপত্তি!”-ঝাড়গ্রামের যুবকের কাছে এল পাকিস্তান-বাংলাদেশি নম্বর থেকে হুমকি

প্রধানমন্ত্রীর ঝালমুড়ি খাওয়ার মুহূর্তটি ভাইরাল হওয়ার পর রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন ঝাড়গ্রামের এক সাধারণ ঝালমুড়ি বিক্রেতা। কিন্তু সেই পরিচিতিই এখন তাঁর কাছে অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে লাগাতার হুমকি ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ আসার অভিযোগে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন ওই ব্যবসায়ী ও তাঁর পরিবার।

ঠিক কী অভিযোগ? দোকানির দাবি, বেশ কিছুদিন ধরে বিভিন্ন অচেনা নম্বর থেকে তাঁর কাছে ফোন আসছে। কখনও ভিডিও কলে অস্ত্র দেখিয়ে, আবার কখনও হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজের মাধ্যমে দোকান বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বিক্রেতার কথায়, “ভিডিও কলে সালাম জানিয়েই অস্ত্র দেখাচ্ছে। আমাকে বলা হচ্ছে, দোকান এখন ওদের ‘টার্গেটে’ রয়েছে।” দিনের বিভিন্ন সময়ে বাংলা ও হিন্দিতে আসা এই হুমকি ফোনগুলোতে প্রধানমন্ত্রীর সেই সফরের প্রসঙ্গও টানা হচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ।

ভয়ে কাঁটা পরিবার: সারা জীবনের সম্বল এই ছোট দোকানটুকু বাঁচাতে দিশেহারা বিক্রেতা ও তাঁর পরিবার। তাঁর মা জানিয়েছেন, অভাবের সংসার এই দোকানের ওপরই নির্ভরশীল। এখন প্রাণভয়ে দোকান খোলা বা সাধারণ জীবনযাপন—সবই কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে ইতিমধ্যেই নিরাপত্তার আবেদন জানিয়েছেন ওই বিক্রেতা।

স্মৃতির পাতায় সেই ঝালমুড়ি: গত এপ্রিলে বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে এসে ঝাড়গ্রামের কলেজ মোড়ের কাছে এই দোকানে আচমকাই থেমেছিল প্রধানমন্ত্রীর কনভয়। মোদীর সেই ঝালমুড়ি খাওয়ার ছবি ও ভিডিও জাতীয় রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছিল। এমনকি বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়েও প্রধানমন্ত্রী বাংলার এই খাবারের প্রশংসা করেছিলেন। তবে সেই জনপ্রিয়তাই এখন ওই বিক্রেতার কাছে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাজনৈতিক বিতর্ক ও বর্তমান পরিস্থিতি: ভোটের সময় এই ঝালমুড়ি ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে ব্যাপক রাজনৈতিক তরজা হয়েছিল। শাসকদলের তরফে একে ‘নাটক’ বলে কটাক্ষ করা হয়েছিল, যার পাল্টা জবাব দিয়েছিলেন মোদী নিজেও। তবে রাজনৈতিক রঙের ঊর্ধ্বে উঠে এখন ওই বিক্রেতার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয় প্রশাসন যদিও বিষয়টি নিয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি, তবে এই ঘটনায় ঝাড়গ্রাম এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy