ভোট মিটলেও নিস্তার নেই! বাংলায় আরও বাড়ল কেন্দ্রীয় বাহিনীর মেয়াদ, কড়া নির্দেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের

ভোটের মরশুম শেষ হলেও পশ্চিমবঙ্গের মাটি থেকে এখনই পাততাড়ি গোটানোর কোনো সুযোগ নেই কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (CAPF)। রাজ্যের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং নির্বাচন পরবর্তী সম্ভাব্য হিংসা রোখার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। মন্ত্রকের নির্দেশিকা অনুযায়ী, আগামী ২০ জুন, ২০২৬ পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে ৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকবে। গত ২০ মে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পক্ষ থেকে একটি ফ্যাক্স বার্তার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে রাজ্যের মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি-কে।

সূত্রের খবর, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে গত ১৬ মে একটি আবেদন জানানো হয়েছিল। সেখানে স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের তরফে অনুরোধ করা হয় যে, রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আগামী অক্টোবর, ২০২৬-এর শেষ পর্যন্ত এই ৫০০ কোম্পানি বাহিনী যেন বাংলায় রেখে দেওয়া হয়। তবে কেন্দ্রের সাম্প্রতিক নির্দেশে পরিষ্কার, রাজ্য সরকারের সেই আর্জি আংশিক গৃহীত হয়েছে এবং আপাতত ২০ জুন পর্যন্ত বাহিনীর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ, ভোট পরবর্তী পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে আরও এক মাস কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরদারিতেই থাকছে বাংলা।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পাঠানো বিস্তারিত তালিকা অনুযায়ী, বাংলায় মোতায়েন এই ৫০০ কোম্পানি বাহিনীর বিন্যাস নিম্নরূপ:

সিআরপিএফ (CRPF): ২০০ কোম্পানি

বিএসএফ (BSF): ১৫০ কোম্পানি

সিআইএসএফ (CISF): ৫০ কোম্পানি

আইটিবিপি (ITBP): ৫০ কোম্পানি

এসএসবি (SSB): ৫০ কোম্পানি

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড রিতেশ কুমার সিং স্বাক্ষরিত চিঠিতে অত্যন্ত কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারকে। স্পষ্ট বলা হয়েছে, এই বিপুল সংখ্যক বাহিনীর আবাসন, যাতায়াতের জন্য পরিবহন এবং প্রয়োজনীয় লজিস্টিকস—সমস্ত ব্যবস্থার দায়িত্ব রাজ্য সরকারকেই বহন করতে হবে। বাহিনীর অপারেশনাল দক্ষতার খাতিরে যে পরিকাঠামো প্রয়োজন, তা দ্রুত নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর মেয়াদ বৃদ্ধি এবং লজিস্টিকস সংক্রান্ত দায়িত্ব রাজ্য সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়া—উভয়ই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রাজ্য সরকার এই বাড়তি সময়সীমার মধ্যে পরিস্থিতির কতটা উন্নতি ঘটাতে পারে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।