মন্ত্রিত্বের গুরুদায়িত্ব কাঁধে এলেও রাজনীতির ময়দানে নিজের চেনা ছন্দ ভাঙলেন না দিলীপ ঘোষ। শুক্রবার সকালে পশ্চিম মেদিনীপুরের রাস্তায় পুরনো কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে মর্নিং ওয়াকে দেখা গেল বিজেপির সর্বভারতীয় নেতা তথা পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষকে। রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে মন্ত্রীর এই ‘মাটির কাছাকাছি’ থাকা ফের একবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
ভোরবেলার চেনা চা-চক্রে বসে এদিন দিলীপ ঘোষ রাজ্যের আর্থিক হাল, কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের সমীকরণ এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে খোলামেলা কথা বললেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক জীবনের ধারায় তিনি যে আজও অবিচল, তা তাঁর কথায় স্পষ্ট। ২০১৪ সাল থেকে মেদিনীপুরের রাজনীতিতে দিলীপ ঘোষের উত্থান নজরকাড়া। খড়গপুরের বিধায়ক কিংবা মেদিনীপুরের সাংসদ—প্রতিটি ভূমিকাতেই তিনি সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শোনার জন্য চা-চক্রকে বেছে নিয়েছিলেন। মন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার মেদিনীপুরে এসে সেই পুরনো মেজাজেই ধরা দিলেন তিনি।
মর্নিং ওয়াকের শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপবাবু বলেন, “পুরনো মেদিনীপুর যেমন ছিল তেমনই আছে। সেই পুরোনো লোকজন, কর্মী-সমর্থক এবং মর্নিং ওয়াক—সবই আগের মতো। শুধু নতুন সরকার এসেছে আর আমি নতুন দায়িত্ব পেয়েছি।” রাজ্যের বেহাল আর্থিক অবস্থা নিয়ে বলতে গিয়ে তৃণমূল সরকারের দিকে আঙুল তুলে তিনি বলেন, “আগের সরকার কোষাগারে বড় বড় গর্ত করে রেখে গিয়েছে। টাকা নেই। তবে কেন্দ্রের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলছে। মুখ্যমন্ত্রীও দিল্লি গিয়েছেন নীতি ও বাজেট নিয়ে আলোচনা করতে। আমিও আমার তিনটি দফতরের বাজেট নিয়ে বসব, আশা করছি সব কাজ নতুন করে শুরু হবে।”
রাজ্যে তৃণমূল নেতাদের বাড়িতে ইডি বা কেন্দ্রীয় সংস্থার তল্লাশি প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী বলেন, “হিংসা ও দুর্নীতির যেসব অভিযোগ জমা পড়েছিল, এখন সেগুলোরই তদন্ত শুরু হয়েছে। কোথাও রাজ্য পুলিশ তদন্ত করছে, আবার কোথাও কেন্দ্রীয় সংস্থা সক্রিয় হয়েছে। তদন্ত হওয়াটাই স্বাভাবিক।” সম্প্রতি রাজনীতির অন্দরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ গ্যাং নিয়ে যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, তা নিয়েও মুখ খুলেছেন দিলীপবাবু। তাঁর সোজাসাপ্টা বক্তব্য, “অনেকে অনেক কথা বলবে। কিন্তু দিনশেষে অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের মুখোমুখি হতেই হবে।”
দিলীপ ঘোষের এই সফর শুধু জনসংযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। জানা গিয়েছে, শুক্রবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করার কথা রয়েছে তাঁর। পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী হিসেবে জেলার প্রশাসনিক অবস্থা, উন্নয়নমূলক প্রকল্পের রূপরেখা এবং আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রস্তুতি—এই বিষয়গুলোই আলোচনার মূল এজেন্ডা। সব মিলিয়ে, মন্ত্রিত্বের নতুন দায়িত্ব নিলেও মেদিনীপুরের মানুষের কাছে দিলীপ ঘোষ যে সেই পুরনো ‘দিলীপদাই’ রয়ে গিয়েছেন, তা ফের প্রমাণিত হলো।





