কেন্দ্রীয় তখতে নরেন্দ্র মোদী সরকারের ১২ বছর পূর্ণ হতে চলেছে আগামী মাসেই। এই ঐতিহাসিক মাইলফলকের ঠিক মুখে দাঁড়িয়ে দিল্লির অন্দরে শুরু হয়েছে নতুন সমীকরণ। বিদেশ সফর থেকে ফিরেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সমস্ত সদস্যদের নিয়ে এক দীর্ঘ ও হাই-প্রোফাইল ম্যারাথন বৈঠকে বসেন। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা ধরে চলা এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে কার্যত নতুন করে কাজের রোডম্যাপ বেঁধে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী তাঁর মন্ত্রীদের স্পষ্ট ও কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, “অতীতে কী হয়েছে বা কী সাফল্য এসেছে তা নিয়ে বসে থাকার সময় নেই, এবার সম্পূর্ণভাবে ভবিষ্যতের দিকে ফোকাস করতে হবে।” সরকারের স্বপ্নের প্রকল্প ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-কে যেন শুধু স্লোগানে সীমাবদ্ধ না রাখা হয়, সেই নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, ফাইল আটকে রাখার প্রথাগত আমলাতান্ত্রিক মানসিকতা ঝেড়ে ফেলার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, কোনো প্রকল্পের ফাইল যেন টেবিলে অহেতুক বন্দি না থাকে, বরং দ্রুততার সঙ্গে পরিষেবা পৌঁছে দিতে হবে জনগণের কাছে।
দীর্ঘ ১১ মাস পর আয়োজিত এই পূর্ণাঙ্গ বৈঠকে ৯টি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক—যেমন কৃষি, বিদেশ, সড়ক পরিবহণ, বাণিজ্য ও বিদ্যুৎ—তাদের গত দুই বছরের কাজের খতিয়ান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ব্লু-প্রিন্ট তুলে ধরে। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সম্প্রতি তাঁর সফল কূটনৈতিক সফরের নির্যাস সহকর্মীদের সামনে তুলে ধরেন। এছাড়া, আগামী ৯ জুনের মধ্যে মন্ত্রিসভার রদবদল ও সম্প্রসারণের যে জল্পনা তুঙ্গে, এই বৈঠকের পর তা আরও জোরালো হয়েছে।
বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতির বর্তমান অস্থিরতার মোকাবিলায় ঘরোয়া শাসনব্যবস্থাকে আরও মজবুত করতে চাইছেন প্রধানমন্ত্রী। গত ১২ বছরের সাফল্যের প্রচার এবং সরকারের জনকল্যাণমুখী প্রকল্পগুলো যাতে সরাসরি আমজনতার দুয়ারে পৌঁছায়, সে বিষয়ে মন্ত্রীদের বিশেষ উদ্যোগ নিতে বলেছেন তিনি। সব মিলিয়ে, মোদী সরকারের তৃতীয় মেয়াদের এই বিশেষ মুহূর্তে আমলাতান্ত্রিক জড়তা কাটিয়ে গতিশীল ও কার্যকর শাসনের দিকেই ঝোঁক বাড়ালেন প্রধানমন্ত্রী।





