ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় এবার বড়সড় পদক্ষেপ নিল পুলিশ প্রশাসন। হুগলির গুড়াপ থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হলো ৩ জন প্রভাবশালী তৃণমূল নেতাকে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর বিরোধী বিজেপি কর্মীদের ওপর নৃশংস অত্যাচার, ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে দীর্ঘ তদন্তের পর অবশেষে এই তিন নেতাকে খাঁচায় পুরল পুলিশ। এই গ্রেফতারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে হুগলির রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
অভিযোগ কী? ২০২১ সালের সেই ‘ভয়াবহ’ স্মৃতি
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের মে মাসে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ঠিক পরপরই হুগলির গুরাপের নেদামপুর এলাকায় ব্যাপক অশান্তি ছড়ায়। অভিযোগ, ধৃত এই তিন তৃণমূল নেতার নেতৃত্বে একদল দুষ্কৃতী ওই এলাকার বিজেপি কর্মীদের বাড়িঘরে চড়াও হয়।
বিজেপি কর্মীদের বেছে বেছে নৃশংস মারধর করা হয়।
একাধিক ঘরবাড়ি ভাঙচুর এবং লুটপাট চালানো হয়।
এলাকা ছাড়া করার জন্য দেওয়া হয় প্রাণনাশের হুমকি।
এই ঘটনায় দীর্ঘ ৫ বছর ধরে মামলা চলার পর এবং পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ হাতে আসতেই পুলিশ কোমর বেঁধে আসরে নামে। গতকাল গভীর রাতে গুড়াপ থানার পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ৩ তৃণমূল নেতাকে তাঁদের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে।
আদালতে পেশ ও রাজনৈতিক তরজা
আজই ধৃতদের চুঁচুড়া আদালতে পেশ করার তোড়জোড় চলছে। এই গ্রেফতারির পর স্বভাবতই হুগলি জেলা জুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর।
বিজেপি শিবিরের দাবি:
“দেরিতে হলেও আইন নিজের পথে চলেছে। ২০২১ সালে নির্বাচনের পর যেভাবে আমাদের কর্মীদের ওপর অত্যাচার করা হয়েছিল, আজ এই গ্রেফতারি তারই বিচার। অপরাধ করে কেউ পার পাবে না।”
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ। পুরনো এবং ভিত্তিহীন মামলাকে নতুন করে খুঁচিয়ে তুলে দলের বদনাম করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে আইনের ওপর তাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং আইনি পথেই এর মোকাবিলা করা হবে।
ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে এই ঘটনার নেপথ্যে আর কারা যুক্ত ছিল, তা খতিয়ে দেখতে চাইছে পুলিশ। গুড়াপ ও সংলগ্ন এলাকায় যেকোনো ধরণের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশি টহলদারি বাড়ানো হয়েছে।





