মুখ্যমন্ত্রী হতেই রুদ্ররূপ শুভেন্দুর! শপথের মাত্র ১১ দিনেই গরাদের পেছনে ১৩ হেভিওয়েট, কাঁপছে বাংলা!

বাংলায় নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই যে রাজ্য প্রশাসনের অন্দরে এক নজিরবিহীন পরিবর্তনের ঝড় বইতে চলেছে, তার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছিল আগেই। তবে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে চেয়ারে বসেই যে শুভেন্দু অধিকারী এত দ্রুত এবং মারমুখী ফর্মে ‘ব্যাটিং’ শুরু করবেন, তা হয়তো অতি বড় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও আঁচ করতে পারেননি। শপথ গ্রহণের পর মাত্র ১১ দিন পার হয়েছে, আর এর মধ্যেই দুর্নীতির অভিযোগে রাজ্যের ১৩ জন হেভিওয়েট ব্যক্তিত্বকে গ্রেফতার করে কার্যত মাস্টারস্ট্রোক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

১১ দিনে ১৩ উইকেট! কাঁপছে দুর্নীতিবাজরা

নবান্ন ও পুলিশ সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী পদে বসার পরদিনই শুভেন্দু অধিকারী পুলিশ প্রশাসন ও তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন— “দুর্নীতির প্রশ্নে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখতে হবে।” এরপরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। গত ১১ দিনে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তোলাবাজি, সিন্ডিকেট রাজ, নিয়োগ কেলেঙ্কারি এবং সরকারি অর্থ তছরুপের অভিযোগে একে একে ১৩ জন হেভিওয়েট অভিযুক্তকে লোহার গরাদের পেছনে পোরা হয়েছে। এই ধৃতদের তালিকায় যেমন রয়েছেন দাপুটে রাজনৈতিক নেতা, তেমনই আছেন বেশ কিছু প্রভাবশালী সরকারি আমলা ও সিন্ডিকেট ডন।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি: “রাজ্যে আইনের শাসন ফেরাতে মুখ্যমন্ত্রী বদ্ধপরিকর। দল বা রঙ না দেখে স্রেফ অপরাধের ভিত্তিতেই এই মেগা অ্যাকশন চলছে। এই ১১ দিনে যা হয়েছে, তা তো কেবল ট্রেলার, আসল সিনেমা এখনও বাকি!”

তুঙ্গে রাজনৈতিক পারদ, কাঁপছে বিরোধী শিবির

মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘অল-আউট’ মারকুটে ব্যাটিংয়ের পর থেকেই রাজ্যের বিরোধী শিবিরে তীব্র কম্পন শুরু হয়েছে। এতদিন যারা ক্ষমতার দম্ভে আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চলতেন, তারা এখন গা ঢাকা দেওয়ার পথ খুঁজছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, শুভেন্দু অধিকারী খুব ভালো করেই জানেন যে মানুষের ভরসা ধরে রাখতে গেলে শুরু থেকেই দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলা প্রয়োজন। আর সেই কারণেই এত দ্রুত অ্যাকশন মোডে নেমে পড়েছেন তিনি।

জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক শোরগোল

নতুন সরকারের এই ঝোড়ো ইনিংস দেখে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিলেও, আমজনতার বড় অংশই এই কড়া পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। সাধারণ মানুষের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে বাংলায় যে সিন্ডিকেট ও তোলাবাজি রাজ রাজত্ব করছিল, তা বন্ধ হওয়া অত্যন্ত জরুরি ছিল।

মাত্র ১১ দিনের মাথায় যদি ১৩ জন হেভিওয়েটকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়, তবে আগামী দিনে শুভেন্দু অধিকারীর এই ‘দুর্নীতিমুক্ত বাংলা’ গড়ার লড়াই কোন স্তরে পৌঁছায়, এখন সেটাই দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy