বাংলায় কি আসছে দ্বিতীয় এইমস? কল্যাণী এইমস থেকে বড় ঘোষণা শমীক ভট্টাচার্যের

রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো নিয়ে যখন সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আর বিতর্ক তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়েই এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং ইতিবাচক বার্তা দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। বুধবার নদীয়ার কল্যাণী এইমস (AIIMS)-এর একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিলেন যে, পশ্চিমবঙ্গে খুব শীঘ্রই আরও একটি সর্বভারতীয় আয়ুর্বিজ্ঞান সংস্থান বা ‘এইমস’ তৈরি হতে চলেছে। তাঁর এই ঘোষণায় রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি স্বাস্থ্যমহলেও নতুন করে আশার আলো দেখা দিয়েছে।

কল্যাণী এইমসে দাঁড়িয়ে মেগা বার্তা
বুধবার কল্যাণী এইমসের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শমীক ভট্টাচার্য। অনুষ্ঠান শেষে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সৌজন্যমূলক সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলির বেহাল দশা এবং চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে যখন চারিদিকে নানা প্রশ্ন উঠছে, ঠিক সেই আবহে শমীক বাবুর এই ঘোষণা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি স্পষ্ট জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্য নীতির লক্ষ্যই হলো দেশের প্রতিটি প্রান্তের মানুষের কাছে বিশ্বমানের চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়া। সেই লক্ষ্যেই বাংলার জন্য বড় পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

লক্ষ্য কি উত্তরবঙ্গ?
কেন্দ্রীয় সরকারের দূরদর্শী স্বাস্থ্য নীতির ভূয়সী প্রশংসা করে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর ভরসা রাখুন। আগামী দিনে এই পশ্চিমবঙ্গে আরও একটি বিশ্বমানের ‘এইমস’ তৈরি হতে চলেছে।” তবে নতুন এইমসটি ঠিক কোন জেলায় তৈরি হবে, তা নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেননি তিনি। তবে ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার ভারসাম্য বজায় রাখতে উত্তরবঙ্গকে এই প্রকল্পের জন্য বেছে নেওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই উত্তরবঙ্গের বাসিন্দারা উন্নত চিকিৎসা পরিষেবার দাবি জানিয়ে আসছেন। এইমস তৈরি হলে শিলিগুড়ি বা সংলগ্ন অঞ্চলের মানুষ আর চিকিৎসার জন্য দূর-দূরান্তে ছুটতে বাধ্য হবেন না।

চিকিৎসা ক্ষেত্রে আসবে নতুন বিপ্লব
বর্তমানে কল্যাণী এইমসের ওপর শুধু নদীয়া নয়, উত্তর ২৪ পরগনা, হুগলি থেকে শুরু করে গোটা দক্ষিণবঙ্গ এবং প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ থেকে আসা বহু মানুষ নির্ভর করে থাকেন। বিপুল রোগীর চাপের কারণে প্রায়শই হাসপাতালের পরিকাঠামোয় চাপ সৃষ্টি হয়। শমীক ভট্টাচার্যের দাবি অনুযায়ী, রাজ্যে দ্বিতীয় এইমস তৈরি হলে বাংলার চিকিৎসা মানচিত্রে এক নতুন যুগের সূচনা হবে। এর ফলে সাধারণ মানুষ আরও কম সময়ে ও নিখরচায় বিশ্বমানের আধুনিক স্বাস্থ্য পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এটি রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদী সংকট সমাধানে এক মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy