‘সংখ্যালঘুদের টার্গেট, চলছে বুলডোজার!’-নতুন রণকৌশল ঘোষণা করলেন মমতা

বিধানসভা নির্বাচনে বড়সড় ধাক্কা খাওয়ার পর এবার রাজপথে বিরোধী শক্তি হিসেবে নিজেদের নতুন করে সংগঠিত করতে কোমর বাঁধছে তৃণমূল কংগ্রেস। মঙ্গলবার কালীঘাটে নবনির্বাচিত তৃণমূল বিধায়কদের নিয়ে এক দীর্ঘ ও গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠক সারলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক পালাবদলের পর এটিই ছিল ঘাসফুল শিবিরের প্রথম বড় বৈঠক, যেখানে দলনেত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়সহ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।

“দিল্লিতে খুব শীঘ্রই ক্ষমতাচ্যুত হবে বিজেপি!”
বৈঠকের পর তৃণমূলের পক্ষ থেকে বেশ কিছু ছবি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়, যা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। দলীয় সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, এই বৈঠক থেকে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “খুব শীঘ্রই দিল্লিতে বিজেপি ক্ষমতাচ্যুত হতে চলেছে। এই সরকার দেশের সংবিধানের ভাবনা এবং মূল্যবোধ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে।” এর পাশাপাশি তাঁর আরও গুরুতর অভিযোগ, দেশজুড়ে বেছে বেছে সংখ্যালঘুদের নিশানা করা হচ্ছে এবং ‘বুলডোজার রাজনীতি’ কায়েম করে গরিবের রুটি-রুজি কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।

উচ্ছেদ রুখতে ২১ মে মেগা আন্দোলন
ভোটের ফল প্রকাশের পর রেল যেভাবে হাওড়া ও শিয়ালদহ স্টেশন চত্বরে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে, তাকেই এখন প্রধান রাজনৈতিক হাতিয়ার করতে চাইছে তৃণমূল। পুনর্বাসনের কোনও বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়াই রেল যেভাবে প্রায় দেড়শো দোকান ভেঙেছে, তার প্রতিবাদে আগামী ২১ মে (বৃহস্পতিবার) হাওড়া, শিয়ালদহ এবং বালিগঞ্জ স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় বড়সড় প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, হকারদের আবেগকে কাজে লাগিয়ে ফের জনসংযোগ পুনরুদ্ধার করাই এখন ঘাসফুল শিবিরের মূল কৌশল।

“গণনার দিন বিকেল ২টোর পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন গণনাকেন্দ্রে আমাদের কাউন্টিং এজেন্টদের মারধর করে বের করে দেওয়া হয়েছিল। কেন্দ্রীয় এজেন্সির পাশাপাশি ভোট-পরবর্তী হিংসা ছড়িয়ে আমাদের ভয় দেখানোর চেষ্টা চলছে।”
— সাগরিকা ঘোষ ও দোলা সেন, তৃণমূল সাংসদ

ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে সরব তৃণমূল
এদিনের বৈঠকে ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়েও সরব হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের দাবি, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকে বিভিন্ন জেলায় তাঁদের কর্মীদের ওপর লাগাতার হামলা চালানো হয়েছে, বহু বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে তৃণমূলের তিনটি ‘ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং টিম’ উপদ্রুত এলাকাগুলি পরিদর্শন করেছে বলে জানা গিয়েছে।

বিরোধী আসনে তৃণমূলের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বিপুল পরাজয়ের পর দলের নিচুতলার কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রাখা এবং সংগঠনের ভিত শক্ত রাখাই এখন কালীঘাটের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সেই কারণেই নবনির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে সরাসরি বৈঠকে বসে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে একতার কড়া বার্তা দিতে চাইলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধান বিরোধী দল হিসেবে তৃণমূল আগামী দিনে শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের বিরুদ্ধে কীভাবে লড়াইয়ের ময়দান প্রস্তুত করে, এখন সেটাই দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy