বাংলা সঙ্গীত জগতের অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং চনমনে কণ্ঠশিল্পী জোজো মুখোপাধ্যায় (Jojo Mukherjee) আচমকাই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গুরুতর অসুস্থতার কারণে কলকাতার একটি নামী বেসরকারি হাসপাতালে সোমবার তাঁর একটি মেজর অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। প্রিয় গায়িকার এই আকস্মিক হাসপাতালে ভর্তির খবর সামনে আসতেই তীব্র উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে তাঁর অগণিত অনুরাগী এবং টলিউড মহলে। তিনি এখন কেমন আছেন, অস্ত্রোপচার কেমন হলো এবং কবেই বা তিনি হাসপাতাল থেকে ছুটি পাবেন—তা জানতে উদগ্রীব হয়ে উঠেছেন ভক্তরা।
হাসপাতালের বিছানায় শুয়েই স্বয়ং সঙ্গীতশিল্পী জোজো সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের শারীরিক অবস্থার বর্তমান আপডেট দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, চিকিৎসকদের তৎপরতায় সোমবার তাঁর পায়ে একটি সফল অস্ত্রোপচার হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি আগের চেয়ে অনেকটাই ভালো আছেন। তবে কীভাবে এত বড় চোট পেলেন গায়িকা? সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে জোজো বলেন, “আসলে অনেকদিন আগে একটি শুটিংয়ের সেটে কাজ করার সময় আমি আচমকা পড়ে গিয়েছিলাম। সেই সময় আমার হিপ জয়েন্টে মারাত্মক ফ্রাকচার বা চির ধরেছিল। কিন্তু কাজের প্রতি দায়বদ্ধতার কারণে তখন ঠিকমতো বিশ্রাম নিতে পারিনি। কড়া ডোজের ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে কোনো রকমে পূর্বনির্ধারিত কাজগুলো শেষ করছিলাম।”
জোজো আরও জানান যে, পুরনো চোট পুরোপুরি না সারতেই সম্প্রতি তাঁর সেই একই জায়গায় আবার নতুন করে চোট লাগে। পরিস্থিতি এতটাই সংকটজনক হয়ে উঠেছিল যে, একটি জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো-এর গ্র্যান্ড ফিনালে পর্যন্ত বেশিরভাগ সময় তীব্র যন্ত্রণা চেপে রেখে তাঁকে শুটিং করতে হয়েছে। কখনো কড়া পাওয়ারের পেনকিলার খেয়ে, আবার কখনো সরাসরি হাই-ডোজের ব্যথানাশক ইনজেকশন নিয়ে তিনি সেটে উপস্থিত থেকেছেন। এমনকি শেষ কয়েকটি পর্বে তাঁকে লাঠি হাতে ভর দিয়েও কাজ করতে দেখা গিয়েছে।
কিন্তু এভাবে শরীরের ওপর অন্যায় অত্যাচার চালিয়ে যাওয়ার খেসারত দিতে হয় গায়িকাকে। জোজো বলেন, “এইভাবে জোর করে দিনের পর দিন কাজ করে গেলেও ভেতরের পরিস্থিতি ক্রমশ অত্যন্ত খারাপের দিকে চলে যাচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকেরা জানান, অস্ত্রোপচার ছাড়া আর কোনো বিকল্প পথ নেই। তবে স্বস্তির খবর এটাই যে, সোমবারের অপারেশন সফল হয়েছে। যেহেতু এটি একটি মেজর অপারেশন ছিল, তাই আমি এখনই পুরোপুরি নিজের পায়ে হাঁটতে পারছি না। চিকিৎসকদের কড়া নির্দেশ মেনে কিছুদিন ওয়াকারের সাহায্য নিয়ে আমাকে হাঁটতে হবে।”
অস্ত্রোপচারের পাশাপাশি এখন গায়িকার দ্রুত সুস্থতার জন্য নিয়মিত ফিজিওথেরাপি সেশন চালানো হবে বলে জানা গিয়েছে। জোজো আরও বলেন, “এখন আমি সেই মারাত্মক এবং অসহ্যকর শারীরিক যন্ত্রণা থেকে অনেকটাই মুক্তি পেয়েছি। তবে কবে নাগাদ আবার লাইভ শো বা রেকর্ডিংয়ের কাজে ফিরতে পারব, তা চিকিৎসকরা পরবর্তী চেকআপের পর এক্স-রে রিপোর্ট দেখেই নিশ্চিত করে বলতে পারবেন।”
তবে একটি বিষয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন গায়িকা। তিনি জানান, বছরের এই সময়টাতে বাংলার সঙ্গীত দুনিয়ায় শো-এর চাপ বা ধুমধাম কিছুটা কম থাকে, যাকে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির ‘অফ সিজন’ বলা হয়। তাই এই অবসরে চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে পুরোপুরি বিশ্রাম নেওয়ার এবং নিজের শরীরকে সময় দেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পাচ্ছেন তিনি। জোজোর আশা, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ফিজিওথেরাপি শেষ করে এবং ধকল কাটিয়ে যখন লাইভ শো-এর মরশুম শুরু হবে, ততদিনে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে আবার চেনা ছন্দে মঞ্চ কাঁপাতে পারবেন।
কলকাতার ওই বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, সোমবার অস্ত্রোপচারের পর আগামী পাঁচ দিন তাঁকে কড়া পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে। এরপর ফিজিওথেরাপির প্রতিক্রিয়া কেমন হচ্ছে এবং এক্স-রে রিপোর্ট কীরকম আসছে—তা খতিয়ে দেখবেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের টিম। যদি আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সমস্ত শারীরিক প্যারামিটার এবং রিপোর্ট একদম ঠিকঠাক থাকে, তবে আগামী শুক্রবারই হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়ে বাড়ি ফিরতে পারেন সঙ্গীতশিল্পী জোজো। আর যদি চিকিৎসকেরা মনে করেন বিশ্রামের আরও প্রয়োজন, তবে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেতে তাঁর আরও কিছুদিন সময় লাগতে পারে। গায়িকার দ্রুত আরোগ্য কামনায় প্রার্থনা করছেন তাঁর লক্ষাধিক ভক্ত।





