আগামী ২১ মে ফলতা বিধানসভার হাইভোল্টেজ নির্বাচন। আর তার ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে, প্রচারের শেষ লগ্নে আজ দিনভর ফলতায় কোমর বেঁধে ময়দানে নামছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পন্ডার সমর্থনে আজ প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এক মেগা রোড শো করবেন তিনি। তবে রাজনৈতিক কর্মসূচির মাঝেও আজকের দিনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হতে চলেছে মুখ্যমন্ত্রীর এক আবেগঘন মধ্যাহ্নভোজ।
প্রয়াত কর্মীর ঘরে আবেগঘন মধ্যাহ্নভোজ মুখ্যমন্ত্রীর
আজ, মঙ্গলবার ফলতায় এসে মুখ্যমন্ত্রী মধ্যাহ্নভোজ সারবেন দলেরই এক প্রয়াত সক্রিয় কর্মী, স্বপন মণ্ডলের বাড়িতে। জানা গিয়েছে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে একাধিক ‘মিথ্যা’ অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল স্বপনবাবুকে। জেলবন্দি থাকা অবস্থাতেই দুর্ভাগ্যজনকভাবে মৃত্যু হয় তাঁর। আজ তাঁরই বাড়িতে গিয়ে পরিবারের পাশে দাঁড়াবেন মুখ্যমন্ত্রী।
স্বপন মণ্ডলের স্ত্রী নিজে হাতে মুখ্যমন্ত্রীর জন্য রান্নার তদারকি করছেন। আর এই দুপুরের মেনুতে থাকছে এলাহী আয়োজন— ভাত, ডাল ও নানাবিধ তরকারির পাশাপাশি পাতে পড়ছে বাঙালির অত্যন্ত প্রিয় ইলিশ ও চিংড়ির মতো দু-তিন রকমের মাছের পদ। তবে শুধু খাওয়া-দাওয়া নয়, খোদ মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নিজেদের জীবনের চরম অন্ধকারের বিচার চাইবেন বলে জানিয়েছেন এই শোকসন্তপ্ত পরিবার।
রোড শো ও কড়া রাজনৈতিক হুঁশিয়ারি
আজ সকাল ১১টা নাগাদ ফলতায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। বিকেল ৪টে পর্যন্ত ঠাসা কর্মসূচি নিয়ে তিনি এলাকাতেই থাকবেন। ১৫ কিলোমিটারের এই মেগা রোড শো-কে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা তৈরি হয়েছে।
এর আগে গত শনিবারও ফলতায় বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে জনসভা করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই সভা থেকেই শাসকদলের প্রার্থীকে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেছিলেন, “কোথায় পুষ্পা? সেই ডাকাতটা কোথায়? ওর দায়িত্ব আমি নিয়ে গেলাম।” একইসঙ্গে ফলতার বিজেপি প্রার্থীকে অন্তত ১ লক্ষ ভোটে জেতানোর জন্য জনগণের কাছে জোরালো আবেদনও জানিয়েছিলেন তিনি।
নজরে ফলতার নির্বাচন
উল্লেখ্য, গত নির্বাচনে একাধিক বেনিয়মের অভিযোগ ওঠায় ফলতার গোটা ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াই বাতিল ঘোষণা করেছিল নির্বাচন কমিশন। আগামী বৃহস্পতিবার (২১ মে) ফলতায় পুনরায় ভোটগ্রহণ হতে চলেছে। আজই তার প্রচারের শেষ দিন। এরপর আগামী ২৪ মে জানা যাবে ফলতার রায় কার পক্ষে গেল। তার আগে মুখ্যমন্ত্রীর এই হাইভোল্টেজ সফর এবং আবেগঘন মধ্যাহ্নভোজ রাজনৈতিক মহলে ঠিক কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।





