সুপ্রিম কোর্টের ডেডলাইন বনাম রাজ্যের রাজকোষ: সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ মেটাতে আজই কি মাস্টারস্ট্রোক নবান্নের?

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর আজ সোমবার ফের এক হাইপ্রোফাইল বৈঠকে বসতে চলেছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নবগঠিত মন্ত্রিসভা। গত ১১ মে নবান্নে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের পর আজ এই দ্বিতীয় মেগা বৈঠক ঘিরেই রাজ্যজুড়ে চড়ছে পারদ। নবান্ন সূত্রে খবর, আজকের এই বৈঠকের আলোচ্য সূচীর একেবারে শীর্ষেই রয়েছে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বহুপ্রতীক্ষিত মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) এবং নতুন বেতন কমিশনের প্রসঙ্গ।

বিগত সরকারের আমলে বকেয়া ডিএ-র দাবিতে রাজ্য সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলির সঙ্গে নবান্নের দীর্ঘ আইনি লড়াই চলেছে। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম বৈঠকেই সরকারি চাকরির বয়সের ঊর্ধ্বসীমা বাড়ানোর মতো একাধিক বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেই দিনই মুখ্যমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, পরবর্তী বৈঠকে কর্মচারীদের ডিএ সংক্রান্ত বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। স্বাভাবিকভাবেই, আজকের বৈঠক থেকে শুভেন্দু অধিকারী কোনো বড়সড় বা ইতিবাচক আপডেট দেন কি না, সেদিকেই চাতক পাখির মতো তাকিয়ে আছেন রাজ্যের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী।

আদালতের ডেডলাইন ও বকেয়া ডিএ-র জট
উল্লেখ্য, গত ৫ ফেব্রুয়ারি দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের ২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বকেয়া ডিএ মামলার এক ঐতিহাসিক রায় দিয়েছিল। শীর্ষ আদালতের রায়ে স্পষ্ট বলা হয়েছিল, মোট বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ অবিলম্বে কর্মচারীদের মিটিয়ে দিতে হবে। বাকি ৭৫ শতাংশ বকেয়া টাকা কোন পদ্ধতিতে এবং কত কিস্তিতে দেওয়া হবে, তা নির্ধারণের জন্য গঠিত কমিটিকে আগামী ৬ মার্চের মধ্যে রূপরেখা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, কমিটির বিবেচনা করা সেই বকেয়ার প্রথম কিস্তির অর্থ গত ৩১ মার্চের মধ্যে পরিশোধ করার কথা ছিল। তবে তৎকালীন রাজ্য সরকার বিভিন্ন আর্থিক কারণ ও জটিলতার দোহাই দিয়ে এই বকেয়া মেটানোর সময়সীমা বৃদ্ধির আর্জি জানিয়ে পুনরায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। ফলে পুরো বিষয়টি নিয়ে এক আইনি জটিলতা তৈরি হয়ে রয়েছে। নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসায় কর্মচারীদের আশা, এবার হয়তো এই বঞ্চনার অবসান ঘটবে।

আজকের বৈঠকে আরও যেসব বিষয়ে নজর
ডিএ এবং কেন্দ্রীয় হারের সমতুল্য ভাতার দাবির পাশাপাশি আজকের ক্যাবিনেট বৈঠকে আরও কয়েকটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে নবান্ন সূত্রে খবর। যার মধ্যে অন্যতম হলো আরজি কর হাসপাতালের ঘটনার চলমান তদন্তের অগ্রগতি এবং আইনশৃঙ্খলার বর্তমান পরিস্থিতি। এর পাশাপাশি নতুন সরকারের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্প, যেমন মহিলাদের ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ বা বেকারদের ‘যুবশক্তি’ প্রকল্পের রূপায়ণের গতিপ্রকৃতি নিয়েও আজ মন্ত্রিসভায় বিস্তারিত আলোচনা ও নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। সব মিলিয়ে, সপ্তাহের প্রথম দিনেই নবান্নের এই দ্বিতীয় ক্যাবিনেট বৈঠককে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy