মাসে ৩০০০ টাকা সরাসরি অ্যাকাউন্টে! জুনেই আসছে শুভেন্দু সরকারের ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’, কারা পাবেন আর কারা বাদ?

রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর থেকেই পূর্বতন সরকারের একাধিক প্রকল্প নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছিল তীব্র কৌতুহল। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, আমজনতার স্বার্থে আগের সরকারের কোনো ভালো প্রকল্প বন্ধ করা হবে না। এবার সেই ধারা বজায় রেখেই রাজ্যে মহিলাদের জন্য নিজেদের দেওয়া সবচেয়ে বড় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ (Annapurna Bhandar) চালু করার তোড়জোড় শুরু করে দিল নতুন বিজেপি সরকার।

সাবেক লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের পরিধি ও টাকার অঙ্ক বাড়িয়ে এবার মহিলাদের দ্বিগুণ আর্থিক সাহায্য দিতে চলেছে বর্তমান সরকার। রাজ্যের ক্যাবিনেট মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পলের সাম্প্রতিক ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী জুন মাস থেকেই এই বহুপ্রতীক্ষিত ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের ফর্ম ফিলআপ শুরু হতে পারে।

টাকার অঙ্ক একধাক্কায় দ্বিগুণ
বিগত সরকারের আমলে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে সাধারণ শ্রেণির মহিলারা মাসে ১,৫০০ টাকা এবং তফসিলি জাতি (SC) ও উপজাতি (ST)ভুক্ত মহিলারা ১,৭০০ টাকা করে পেতেন। তবে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে এই ভাতার পরিমাণ একধাক্কায় দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই নতুন প্রকল্পের আওতায় যোগ্য মহিলারা প্রতি মাসে সরাসরি ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন।

সকলে পাবেন না এই সুবিধা: অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের যোগ্যতার কড়া শর্ত
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, সরকারি কোষাগারের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে ঢালাওভাবে সবাইকে এই টাকা দেওয়া হবে না। শুধুমাত্র প্রকৃত যোগ্য এবং অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া মহিলারাই এই জনমুখী প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। সরকারের বেঁধে দেওয়া নিয়ম অনুযায়ী, আবেদন করার জন্য যে শর্তগুলি পূরণ করতে হবে:

আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা এবং মহিলা হতে হবে।

আবেদনকারীর বয়স ন্যূনতম ২৫ বছর বা তার বেশি হতে হবে।

পরিবারটিকে অবশ্যই নিম্ন আয়ের বা অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শ্রেণির (EWS) অন্তর্ভুক্ত হতে হবে।

আবেদনকারীর পরিবারে নির্দিষ্ট রেশন কার্ড (BDO/AAY/PHH) থাকতে হবে।

রাজ্য সরকার শীঘ্রই এই প্রকল্পের জন্য একটি নির্দিষ্ট বার্ষিক আয়ের সীমা বেঁধে দেবে, তার কম আয় হলেই আবেদন করা যাবে।

কারা পাবেন না এই ৩,০০০ টাকা?
নতুন নিয়মে কারা এই প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন, তারও একটি রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।

কোনো স্থায়ী বা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী এই সুবিধা পাবেন না।

সরকারের বেঁধে দেওয়া নির্দিষ্ট বার্ষিক আয়ের সীমার ওপরে থাকা বিত্তশালী পরিবারের মহিলারা এই ভাতার বাইরে থাকবেন।

অন্য রাজ্যের বাসিন্দা কিন্তু বর্তমানে বাংলায় থাকছেন, এমন কেউ এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।

আবেদনের জন্য কী কী নথি বাধ্যতামূলক?
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম ফিলআপের জন্য বেশ কিছু নথিপত্র আগে থেকেই গুছিয়ে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নবান্ন সূত্রে খবর, নিচের এই নথিগুলির একটিও যদি কম থাকে, তবে আবেদনপত্র বাতিল হয়ে যেতে পারে:
১. ভোটার আইডি কার্ড (Voter ID Card)
২. রেশন কার্ড (Ration Card)
৩. ব্যাঙ্কের পাসবুক (Bank Passbook – টাকা সরাসরি এই অ্যাকাউন্টে ঢুকবে)
৪. আবেদনকারীর পাসপোর্ট সাইজের ছবি
৫. সচল মোবাইল নম্বর (ওটিপি এবং মেসেজের জন্য)
৬. পরিচয় যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি পরিচয়পত্র [আধার কার্ড]

কবে এবং কীভাবে করবেন আবেদন?
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, মে মাসে এই প্রকল্প চালু না হলেও জুন মাস থেকে প্রক্রিয়া শুরু করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। তবে তার আগে সুবিধাভোগীদের তালিকা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ঝাড়াই-বাছাই করবে সরকার।

প্রকল্পের ফর্ম এখনও প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে জানা গেছে, আবেদন প্রক্রিয়া মূলত অনলাইনেই সম্পন্ন হবে। পাশাপাশি গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে অফলাইনের বিকল্প ব্যবস্থাও রাখা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে স্থানীয় ব্লক অফিস (BDO) বা পুরসভা (Municipality) অফিসের মাধ্যমে ফর্ম সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার সুবিধা মিলতে পারে, যদিও এই বিষয়ে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এখনও চূড়ান্ত গাইডলাইন বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসা বাকি।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy