বুলডোজার দিয়ে হকার উচ্ছেদ নয়! হঠাৎ তৃণমূলকে সঙ্গে নিয়ে পথে নামার হুঙ্কার মহম্মদ সেলিমের

রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের সাম্প্রতিক ‘বুলডোজার অ্যাকশন’ এবং কড়া উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে এবার রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করলেন সিপিএম-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। হকার উচ্ছেদের নামে গরিব মানুষের পেটে লাথি মারা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিলেন এই বাম নেতা। উচ্ছেদ রুখতে প্রশাসনিক ‘জোর-জুলুম’ বন্ধ করার পাশাপাশি হকারদের বিকল্প ব্যবস্থার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার দাবি তুলেছেন তিনি। একই সঙ্গে এই ইস্যুতে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের নিচুতলার কর্মীদেরও দলের ঊর্ধ্বে উঠে একযোগে পথে নামার এক নজিরবিহীন পরামর্শ দিয়েছেন সেলিম, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

গত কয়েক দিন ধরেই রাজ্য জুড়ে ফুটপাত ও রাস্তাঘাট হকারমুক্ত করার এক বিশাল অভিযানে নেমেছে পুরসভা ও পুলিশ প্রশাসন। বহু জায়গায় রাতারাতি হকারদের স্টল ভেঙে দেওয়া বা মালপত্র বাজেয়াপ্ত করার মতো ঘটনা ঘটেছে। প্রশাসনের এই আকস্মিক ও কঠোর মনোভাবের জেরে ক্ষোভে ফুঁসছেন রাজ্যের লক্ষাধিক হকার ও তাঁদের পরিবার।

এই জ্বলন্ত ইস্যু নিয়েই এবার বামেদের তরফ থেকে কড়া অবস্থান স্পষ্ট করলেন মহম্মদ সেলিম। তিনি পরিষ্কার জানান, শহর সচল রাখা বা ফুটপাত সচ্ছল করার নামে যেভাবে গরিব হকারদের ওপর আচমকা জুলুম চালানো হচ্ছে, তা অত্যন্ত অমানবিক। কোনো হকারকে তাঁর রুজি-রুটি থেকে বঞ্চিত করার আগে সরকারকে তাঁদের পুনর্বাসনের কথা ভাবতে হবে। হকারদের নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার জন্য এবং বিকল্প ব্যবস্থা করার জন্য প্রশাসনকে নির্দিষ্ট সময় দিতেই হবে।

তবে সেলিমের রোববারের বিবৃতির সবচেয়ে চমকপ্রদ অংশটি ছিল শাসক দলের প্রতি তাঁর আকস্মিক বার্তা। তিনি দাবি করেন, এই উচ্ছেদ অভিযানের ফলে কেবল বামপন্থী হকাররা নন, তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত থাকা হাজার হাজার গরিব হকারও আজ চরম সংকটে। তাই এই মরণ-বাঁচন লড়াইয়ে তৃণমূলের সৎ কর্মীদেরও চুপ করে বসে থাকা উচিত নয়। নিজের দলের ভুল সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে হকারদের স্বার্থে তাঁদেরও পথে নামা দরকার।

মহম্মদ সেলিমের এই ‘পথে নামার পরামর্শ’ শাসক শিবিরের অন্দরে কিছুটা অস্বস্তি বাড়ালেও, তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি—শহরকে সুন্দর ও যানজটমুক্ত করতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা মেনেই প্রশাসন কাজ করছে। তবে হকারদের রুজি-রুজির বিষয়টিও সরকার সহানুভূতির সঙ্গেই দেখছে। একদিকে নবান্নের অনমনীয় মনোভাব, অন্যদিকে উচ্ছেদ রুখতে সেলিমের এই নতুন রাজনৈতিক চাল—সব মিলিয়ে হকার ইস্যু যে আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিকে আরও উত্তপ্ত করতে চলেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy