তিলোত্তমার রাস্তায় ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফেরাতে এবার কোমর বেঁধে নেমেছে কলকাতা ট্রাফিক পুলিশ। শহরের আনাচে-কানাচে যত্রতত্র বেআইনি পার্কিং রুখতে এবং যানজট মুক্ত কলকাতা গড়তে পুলিশের পক্ষ থেকে শুরু হয়েছে এক নজিরবিহীন ধরপাকড় ও কড়া নজরদারি। রাজ্য জুড়ে ক্ষমতার পালাবদলের পর পুলিশের এই হঠাৎ অতি-তৎপরতা নিয়ে যখন আমজনতা থেকে শুরু করে চালক মহলে জোর গুঞ্জন, ঠিক তখনই এই গোটা বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করলেন ক্যাবিনেট মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
কলকাতা ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ‘নো পার্কিং’ জোনে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখলে এবার আর কোনো রকম রেহাই মিলবে না। নিয়মভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে মোটা অঙ্কের জরিমানা তো বটেই, প্রয়োজনে গাড়ি ক্রেন দিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার মতো কড়া পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে। ট্রাফিক পুলিশের এই অনমনীয় মনোভাব ও কড়াকড়ি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই শহরে এক মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
এই চরম চর্চার মাঝেই রাজ্যের পরিবহণ, পরিকাঠামোগত উন্নয়ন এবং আমজনতার সামগ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের মনোভাব সংবাদমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। নিজের চেনা ‘অন দ্য গ্রাউন্ড’ মেজাজেই তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, রাজ্যের উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই নতুন সরকারের মূল লক্ষ্য।
কলকাতার ট্রাফিক ব্যবস্থা ও বেআইনি পার্কিংয়ের কড়াকড়ি নিয়ে দিলীপ ঘোষ জানান, আইন সবার জন্য সমান। শহরের বুকে যানজটের সমস্যা মেটাতে এবং রাস্তাঘাটকে সাধারণ মানুষের চলাচলের উপযোগী রাখতে ট্রাফিক পুলিশকে নিজস্ব নিয়মে কাজ করতে দেওয়া উচিত। তবে একই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, নিয়মের কড়াকড়ির নামে সাধারণ মানুষ বা চালকদের যাতে কোনো রকম অযথা হেনস্থার শিকার হতে না হয়, প্রশাসনকে সেদিকেও সমান কড়া নজর রাখতে হবে।
পরিবহণ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং পরিকাঠামোর খোলনলচে বদলে ফেলতে নতুন সরকার যে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে কাজ শুরু করেছে, মন্ত্রীর এদিনের বার্তা থেকে তা একপ্রকার পরিষ্কার। এখন দেখার, কলকাতা পুলিশের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি শহরের দীর্ঘদিনের চেনা যানজট এবং বেআইনি পার্কিংয়ের চেনা ছবিটা কতটা বদলে দিতে পারে।





