টাকা নেই তো কী হয়েছে, স্ত্রী-মেয়ের শরীর নাও! মাত্র ২০০০ টাকা ঘরভাড়ার জন্য একি পৈশাচিক কাণ্ড স্বামীর!

আধুনিক সমাজের অবক্ষয় ও পৈশাচিকতার সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করে এক হাড়হিম করা অপরাধের সাক্ষী থাকল গুজরাটের মোরবি জেলা। স্রেফ সামান্য দুই হাজার টাকা ঘরভাড়া মেটাতে না পারায় নিজের স্ত্রী এবং নাবালিকা মেয়েকে দিনের পর দিন বাড়িওয়ালার হাতে ধর্ষণের জন্য তুলে দিল এক ব্যক্তি। রক্তের সম্পর্ককে কলঙ্কিত করে খোদ স্বামীর এই চরম অমানবিক ও নৃশংস কাণ্ডের কথা সামনে আসতেই শিউরে উঠছেন তদন্তকারীরা। ঘটনার ভয়াবহতা এতটাই যে, এই নৃশংসতার কথা শুনে স্তম্ভিত হয়ে পড়েছে গোটা দেশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মোরবি এলাকার ওই পরিবারটি চরম আর্থিক অনটনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। বেশ কয়েক মাস ধরেই ঘরের মাত্র ২,০০০ টাকা ভাড়া বাকি পড়েছিল তাদের। বাড়িওয়ালা যখন টাকার জন্য চাপ দিতে শুরু করে, তখন দেনা মেটাতে কোনো মানবিক পথ না খুঁজে এক নারকীয় চক্রান্ত করে ওই ব্যক্তি। সে নিজের স্ত্রীকে বাধ্য করে বাড়িওয়ালার লালসার শিকার হতে। এখানেই শেষ হয়নি এই পৈশাচিকতা, ভাড়ার টাকার বদলে নিজের নাবালিকা কন্যাসন্তানকেও ওই নরপশুর লালসার আগুনে আহূতি দিতে দ্বিধা করেনি সেই পাষণ্ড পিতা।

নির্যাতিতা মহিলার অভিযোগ, প্রতিবাদ করতে গেলে তাঁর ওপর অকথ্য শারীরিক অত্যাচার চালাত তাঁর স্বামী। দিনের পর দিন ওই বন্ধ ঘরের ভেতর মা ও মেয়ের ওপর চলত লাগাতার ধর্ষণ ও পাশবিক নির্যাতন। আর সবথেকে ভয়ঙ্কর বিষয় হলো, যখন বাড়িওয়ালা এই কুকীর্তি চালাত, তখন ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে পাহারা দিত খোদ স্বামী।

দিনের পর দিন এই নরকযন্ত্রণা সহ্য করার পর, অবশেষে কোনোক্রমে ওই নরপশুদের নজর এড়িয়ে স্থানীয় থানার দ্বারস্থ হন নির্যাতিতা মা ও মেয়ে। তাঁদের মুখ থেকে এই পৈশাচিকতার বিবরণ শুনে মুহূর্তের মধ্যে নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে পুলিশ তৎক্ষণাৎ পকসো (POCSO) আইন এবং ধর্ষণের একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে অভিযুক্ত বাড়িওয়ালা এবং অপরাধে মদতদাতা ওই স্বামীকে গ্রেফতার করেছে। এই ঘটনার পেছনে আর কোনো চক্র কাজ করছে কি না, তা জানতে ধৃতদের কড়া জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।

Pratik Saha
  • Pratik Saha