ইডি-র হাতে কলকাতা পুলিশের ডিসিপি শান্তনু সিনহা বিশ্বাস গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এবার সেই রেশ কাটতে না কাটতেই নিজের দপ্তরের অন্দরেই বড়সড় বিপাকে পড়লেন এই আইপিএস অফিসার। ইডি-র সমান্তরালে এবার তাঁর বিরুদ্ধে কো-অপারেটিভ বা সমবায় ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট খুলে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান (Internal Inquiry) শুরু করল লালবাজার।
তদন্তকারী সূত্রের খবর, গ্রেপ্তারির পর শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং নথিপত্র খতিয়ে দেখার কাজ শুরু হয়েছে। সেখানেই একটি নামী সমবায় ব্যাঙ্কে তাঁর নামে থাকা অ্যাকাউন্টের হদিশ মেলে। অভিযোগ, নিজের পদমর্যাদা ব্যবহার করে এবং আয় বহির্ভূতভাবে ওই অ্যাকাউন্টে বিপুল অঙ্কের আর্থিক লেনদেন করা হয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, কোনো পুলিশ আধিকারিক এই ধরনের সন্দেহজনক বা নিয়মবহির্ভূত আর্থিক লেনদেনে জড়িত থাকলে তা চরম শৃঙ্খলাভঙ্গের শামিল। আর সেই কারণেই লালবাজারের শীর্ষ মহল এই আইপিএস অফিসারের বিরুদ্ধে কড়া বিভাগীয় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, বালিগঞ্জের বাসিন্দা সোনা পাপ্পু ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দারের তোলাবাজি এবং মানি লন্ডারিং চক্রের সঙ্গে যোগসূত্রের অভিযোগে গত ১৪ মে প্রায় সাড়ে ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর ডিসিপি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃত ব্যবসায়ী জয় কামদারের থেকে উদ্ধার হওয়া নথিতে এবং সোনা পাপ্পুর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের ট্রানজ্যাকশন খতিয়ে দেখার সময় এই পুলিশ আধিকারিকের অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সরাসরি আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে।
একসময় কালীঘাট থানার আইসি হিসেবে কাজ করা শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে পূর্বতন সরকারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে মনে করা হতো। রাজ্যে শাসনভার পরিবর্তনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুলিশ মহলে দুর্নীতি দমনে যে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন, তারপর এই হাইপ্রোফাইল আইপিএস অফিসারের গ্রেপ্তারির ঘটনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
এবার ইডি-র আইনি তদন্তের পাশাপাশি লালবাজারের এই অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান শুরু হওয়ায় শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের ওপর চাপ আরও কয়েক গুণ বেড়ে গেল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এই কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আর কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে টাকা পৌঁছেছিল কিনা, এখন সেটাই খতিয়ে দেখছেন লালবাজারের গোয়েন্দারা।





