ভাড়ার টাকা জোগাতে না পেরে এ কী করলেন স্বামী! খোদ বাড়িওয়ালার হাতে তুলে দিলেন স্ত্রী-কন্যাকে?

সভ্য সমাজের বুক কাঁপিয়ে দেওয়ার মতো এক নারকীয় ও অমানবিক ঘটনার সাক্ষী থাকল দেশ। আর্থিক অনটন আর ঋণের দায়ে মানুষ কতটা নিচে নামতে পারে, তা প্রমাণ করল এক ব্যক্তির এই ভয়ংকর সিদ্ধান্ত। ঘরের বকেয়া ভাড়ার টাকা মেটাতে না পেরে খোদ বাড়িওয়ালার হাতে নিজের স্ত্রী ও নাবালিকা কন্যাকে তুলে দেওয়ার লিখিত চুক্তি করার অভিযোগ উঠল এক গৃহকর্তার বিরুদ্ধে। এই নৃশংস ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে গোটা এলাকায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরেই চরম আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। বেশ কয়েক মাসের ঘরের ভাড়াও বাকি পড়েছিল। বাড়িওয়ালা বারবার বকেয়া টাকার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন এবং ঘর খালি করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছিলেন। অভিযোগ, ভাড়ার টাকা জোগাড় করতে ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত এক পৈশাচিক পথ বেছে নেন ওই ব্যক্তি। তিনি বাড়িওয়ালার সঙ্গে একটি গোপন চুক্তি করেন, যেখানে উল্লেখ করা হয় যে ভাড়ার টাকা মকুব করার বিনিময়ে বাড়িওয়ালা তাঁর স্ত্রী এবং নাবালিকা কন্যাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে ব্যবহার করতে পারবেন।

এই নারকীয় চুক্তির কথা জানতে পেরেই কান্নায় ভেঙে পড়েন ওই মহিলার স্ত্রী। তিনি কোনোমতে বাড়ি থেকে পালিয়ে স্থানীয় থানায় পৌঁছান এবং স্বামীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার সংবেদনশীলতা এবং গুরুত্ব বিবেচনা করে পুলিশ অবিলম্বে তৎপরতা দেখায়। পুলিশি হানায় হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্ত স্বামীকে। একই সাথে এই কুৎসিত চুক্তিতে লিপ্ত থাকার অভিযোগে বাড়িওয়ালাকেও আটক করেছে পুলিশ।

নির্যাতিতা মহিলা জানিয়েছেন, “টাকা না থাকার অজুহাতে দীর্ঘদিন ধরেই আমার স্বামী আমার ওপর মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার চালাচ্ছিলেন। কিন্তু তিনি যে নিজের কন্যাসন্তান এবং আমাকে এভাবে বিক্রি করে দেওয়ার চুক্তি করবেন, তা আমি কল্পনাও করতে পারিনি।”

পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) এবং পকসো (POCSO) আইনের একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। নির্যাতিতা মহিলা ও তাঁর নাবালিকা কন্যাকে উদ্ধার করে নিরাপদ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে এবং তাঁদের কাউন্সেলিং-এর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এই ঘটনার পেছনে অন্য কোনো চক্র জড়িত রয়েছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy