‘তোমাদের আশ্রিত লুম্পেনরা…’, এবার সায়নীকে সরাসরি নিশানা জীতুর, টলিউডে রাজনৈতিক যুদ্ধ চরমে!

রাজ্য-রাজনীতির পটপরিবর্তন এবং টলিউড ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে ক্ষমতা দখলের লড়াই এবার এক নজিরবিহীন মোড় নিল। গত কয়েকদিন ধরেই বিনোদন জগতের তারকাদের মধ্যে পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ি এবং রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ে সংঘাত চরমে উঠেছে। টলিপাড়ার অন্দরে রাজনীতি ও ক্ষমতার আস্ফালনের বিরুদ্ধে বরাবরই সরব হয়েছেন অভিনেতা জীতু কমল। কখনও শাসকদল ঘনিষ্ঠ ফোরামের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন, তো কখনও সিনেইন্ডাস্ট্রির অগ্রজ ব্যক্তিত্বদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে এবার সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসের তারকা নেত্রী তথা সাংসদ সায়নী ঘোষকে নিশানা করে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বিস্ফোরক পোস্ট করলেন জীতু, যা ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক ও বিনোদন মহলে।

এক সময় অনীক দত্তের পরিচালনায় ‘অপরাজিত’ সিনেমায় জুটি বেঁধেছিলেন সায়নী ঘোষ এবং জীতু কমল। সেই অনস্ক্রিন রসায়ন থেকে বাস্তবে তাঁদের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এবং বিশেষ করে রাজনৈতিক সমীকরণের পরিবর্তনে সেই বন্ধুত্বে ফাটল ধরে। বরাবরই স্পষ্টবক্তা এবং সাহসী স্বভাবের অভিনেতা জীতু কমল এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় সায়নীকে উদ্দেশ্য করে একটি দীর্ঘ এবং অত্যন্ত আক্রমণাত্মক পোস্ট করেছেন। যেখানে তিনি প্রায় দুই বছর পুরনো এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার কথা প্রকাশ্যে এনেছেন।

জীতুর দাবি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি এবং তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী নবনীতা দাস উত্তর ২৪ পরগনার বিরাটিতে এক মারাত্মক সমস্যায় পড়েছিলেন। অভিনেতার অভিযোগ, শাসকদলের আশ্রিত কিছু ‘লুম্পেন’ বা দুষ্কৃতী তাঁদের হেনস্থা করেছিল। সেই সময় সায়নী ঘোষ তাঁকে সাহায্য করার পরিবর্তে উল্টে একটি হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ পাঠিয়েছিলেন, যাতে স্পষ্ট এবং প্রচ্ছন্ন একটি ‘থ্রেট’ বা হুমকি ছিল। জীতু তাঁর পোস্টে সুনির্দিষ্ট তারিখ ও সময় উল্লেখ করে লিখেছেন, “আপনি একটি হোয়াটসঅ্যাপ ৮ ডিসেম্বর ২০২২, সন্ধে ৬.৩৪ মিনিটে (মিলিয়ে নেবেন) করেছিলেন, যাতে পরিষ্কার প্রচ্ছন্ন একটি থ্রেট ছিল— এই ঘটনাটিকে সাধারণ ঘটনা হিসেবেই ট্রিট করো, নইলে বিপদে পড়বে।”

অন্য দিকে, সায়নী ঘোষের শিবিরের পক্ষ থেকে এই ঘটনার সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছিল। সায়নীর দাবি ছিল, সেই সময় জীতু কমল নিজেই থানায় গিয়ে দাদাগিরি করেছিলেন এবং সায়নী একজন বন্ধু হিসেবে তাঁকে লুম্পেনদের সঙ্গে ঝামেলায় না জড়ানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন। এমনকি সায়নী সে সময় স্থানীয় থানার ওসির সঙ্গে কথা বলে জীতুকে সাহায্য করেছিলেন বলেও দাবি করা হয়।

তবে সায়নীর এই দাবিকে পুরোপুরি নস্যাৎ করে দিয়েছেন জীতু। রাজনৈতিক দল বদল এবং ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান পরিস্থিতির আবহে জীতু লিখেছেন, “ডিয়ার সায়নী ঘোষ, বোকা বোকা প্রশ্নের উত্তর দিতে আপনি যখন অপছন্দই করেন, তাহলে দিলেন কেন? আপনি প্রশ্ন হিসেবে ধরে নিলেন। আমি বোকা, তাই বোকা বোকা প্রশ্ন করেছি।” জীতু কমলের এই বিস্ফোরক পোস্টের পর সায়নী ঘোষের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে টলিপাড়ার এই দুই প্রাক্তন বন্ধুর এই প্রকাশ্য যুদ্ধ আগামী দিনে বাংলার রাজনীতি ও বিনোদন দুনিয়ার সমীকরণকে কোথায় নিয়ে যায়, সেটাই এখন দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy