নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে ঢুকছে বর্ষা! কিন্তু বাঙালির কপালে কি শুধুই খরতাপ? জানাল হাওয়া অফিস!

চলতি বছর নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক সপ্তাহ আগেই ভারতের মূল ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে চলেছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। আবহাওয়া দফতরের সাম্প্রতিকতম পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৬ মে নাগাদ কেরলে বর্ষা আছড়ে পড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। সাধারণত প্রতি বছর ১ জুন কেরলে বর্ষার আগমন ঘটে। তবে সবকিছু অনুকূলে থাকায় এবার মে মাসের শেষভাগেই দক্ষিণ ভারতে বর্ষার বৃষ্টি শুরু হয়ে যাবে। কেন্দ্রীয় মৌসম ভবন (IMD) ২০০৫ সাল থেকে নিজস্ব আধুনিক পরিসংখ্যানভিত্তিক মডেল ব্যবহার করে বর্ষা আগমনের এই পূর্বাভাস দিয়ে আসছে, যার নির্ভুলতার হার গত ২১ বছরে প্রায় ১০০ শতাংশ প্রমাণিত হয়েছে। মে মাসের ২৬ তারিখে কেরলে বর্ষা ঢুকলে স্বাভাবিকভাবেই দক্ষিণ ভারতের বিস্তীর্ণ অংশে তীব্র দহনজ্বালা থেকে মিলবে বড়সড় স্বস্তি।

কেরলে বর্ষা সময়ের আগে এলেও পশ্চিমবঙ্গের ভাগ্য এখনই ফিরছে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হাবিবুর রহমান বিশ্বাস শনিবার সকালে এক সাংবাদিক বৈঠকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আপডেট দিয়েছেন। তিনি জানান, কেরলে নির্ধারিত সময়ের প্রায় চার দিন বা এক সপ্তাহ আগে বর্ষা প্রবেশ করলেও, বাংলায় বর্ষা আসার কোনও আগাম সম্ভাবনা নেই। পূর্ব নির্ধারিত সূচি মেনে অর্থাৎ জুন মাসের মধ্যভাগের আগে বঙ্গে বর্ষা প্রবেশ করবে না। ফলে প্রাক-বর্ষার বৃষ্টি চললেও, পাল্লা দিয়ে বাড়বে তাপমাত্রা এবং বজায় থাকবে অস্বস্তিকর গরম। তবে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করতে চলেছে। দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া একটি নিম্নচাপের টানেই ভারতের এই দ্বীপপুঞ্জে সময়ের আগেই বর্ষা ঢুকছে, যার প্রভাবে সেখানে প্রবল বর্ষণ ও দুর্যোগের আশঙ্কা রয়েছে। এই কারণে পর্যটকদের আগাম সতর্ক থাকার বার্তাও দিয়েছে হাওয়া অফিস।

এদিকে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তরবঙ্গের আবহাওয়ার মধ্যে এক বিশাল বৈপরীত্য তৈরি হতে চলেছে। আলিপুরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৪ থেকে ৫ দিন উত্তরবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে ওপরের পাঁচটি জেলা—দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে বিক্ষিপ্তভাবে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। দার্জিলিং থেকে শুরু করে মালদা পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের আটটি জেলাতেই দফায় দফায় ঝড়-বৃষ্টি চলবে। অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গের ছবিটা সম্পূর্ণ আলাদা এবং উদ্বেগজনক। পশ্চিমের জেলাগুলিতে সামান্য বিক্ষিপ্ত ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও সামগ্রিকভাবে বৃষ্টির দেখা নেই। ফলে আগামী কয়েক দিনে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে তাপমাত্রা আরও ২ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত হু হু করে বাড়তে পারে। স্থানীয় মেঘ সঞ্চারের কারণে দু-এক জায়গায় স্বল্প সময়ের জন্য সামান্য বৃষ্টি হলেও, তা গরম কমাতে পারবে না। কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫.৭ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৭.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৯৩ শতাংশ ছুঁয়ে যাওয়ায় ভ্যাপসা গরমে নাভিশ্বাস উঠবে শহরবাসীর।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy